শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইরানে প্রতিবাদে পশ্চিমা হাত দেখছে তেহরান  

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ২০:৫৮

ইরানে দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদের পেছনে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সি কুর্দি ইরানি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদের শুরু হয়েছিল। চুল হিজাবে ঠিকভাবে ঢাকা হয়নি এমন অভিযোগে দেশটির নীতি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল তাকে। এরপর তেহরানের একটি হাসপাতালে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এতবড় প্রতিবাদ আর দেখা যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়লের মুখপাত্র নাসের কান্নানি এই বিষয়ে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা দেশগুলো এবং আমেরিকার কিছু মিত্র এই প্রতিবাদে ভূমিকা পালন করছে।''  

এদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভাতিজি ফরিদে মুরাদখানিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি তার চাচার নেতৃত্বাধীন ইরানি কর্তৃপক্ষকে এক ‘‘হত্যাকারী এবং শিশুদের খুনি শাসক গোষ্ঠী'' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ফরিদে মুরাদখানি আদতে খামেনি পরিবারের এমন এক অংশের সদস্য যেটি দেশটির নেতৃত্বের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। মুরাদখানি অতীতেও কারাভোগ করেছেন। তার ভাই মাহমুদ মুরাদখানি টুইটারে জানিয়েছেন যে, তার বোনকে গত বুধবার সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে ডাকা হয় এবং সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফরিদে মুরাদখানি তার ভিডিওতে বলেছেন, ‘‘মানুষকে মুক্ত করুন, আমাদের সাথে থাকুন। আপনাদের সরকারকে বলুন হত্যাকারী এবং শিশুদের খুনি শাসকগোষ্ঠীকে সমর্থন না দিতে।''

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া প্রতিবাদ দমনে এখন অবধি ১৪ হাজারের মতো প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ইরান সরকার। আর নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটসের হিসেব অনুয়ায়ী, সরকারি দমনপীড়নে প্রাণ হারিয়েছে ৫১ শিশুসহ অন্তত ৪১৬ জন। 

ইত্তেফাক/এসআর