রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মোটর শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৭:৪৫

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংগঠনের শ্রমিকদের চাঁদার টাকা, শ্রমিক কার্ড বিক্রি, ভবনসহ জমি বিক্রির অন্তত ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত মাহাতাব হোসেন চৌধুরী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর। 

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এই অভিযোগ করেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন, মোটর শ্রমিক ইউনিয়ের সদস্য ও বাসচালক মিজানুর রহমান মেরাজ। এ সময় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ও বাসচালক হারুনুর রশিদ, নজরুল ইসলাম, সালাম শেখ ও নাজিম উদ্দিন নাজিম উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে সদস্য কার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকরা বলেন, সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া বেআইনিভাবে আনুমানিক ৭০০ সদস্য কার্ড বিক্রি করেছেন। এ হিসাবে সদস্য কার্ডের মূল্য ২১ লাখ টাকা; যা সম্পূর্ণ আত্মসাত করা হয়েছে। রাজশাহী বাইপাস সংলগ্ন ললিতাহার মৌজার ১৯ কাঠা জমির (দলিল নম্বর-৯৪১৭) মধ্যে ১৬ কাঠা বিক্রি করেছেন পানির দামে। মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দাম দেখিয়ে বাকি অন্তত ১০ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী।

রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনালের পাশে মেইন রোড সংলগ্ন শিরোইল মৌজার একতলা আরসিসি পাকা বিল্ডিংসহ জমির পরিমাণ .০৯৭৭ শতাংশ (দলিল নম্বর- ৬২৪২) রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনয়নের নামে। এটি জনৈক হাশেম আলীর কাছে ১ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। কিন্তু বর্তমানে বিল্ডিং ও জমির দাম প্রায় ৮ কোটি টাকা। এই টাকাও এককভাবে আত্মসাত করেছেন তিনি। তার কাছে শেয়ারহোল্ডার মূল্যে জমির মালিক সদস্যগণ হিসাব চাইতে গেলে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। কার্ডের মাসিক চাঁদা বন্ধ করে দেন। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শ্রমিকরা একাধিক মামলাও করেছেন।

মাহাতাব হোসেন ২ হাজার ৪৪০ জন শেয়ার হোল্ডার মাঝে খড়খড়ি ললিতহার মৌজার জমি বিক্রির মাত্র ৩ হাজার টাকা করে দেন। গত ৭ জুন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলন করে বক্তব্যে বলেন, জমি বিক্রি করেছি। ২ হাজার ৪৪০ জনকে ৩ হাজার টাকা করে দিয়েছি। বাকি টাকা আমার কাছে আছে, সেই টাকা দিয়ে শ্রমিকদের ১০ কোটি টাকার সম্পদ কিনে দিবো। কিন্তু তিনি দেননি। রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সড়ক ফেডারশনের নামে প্রতিদিন গাড়ি প্রতি চাঁদা গ্রহণ করে ২০ টাকা। সেই টাকারও কোনো হিসেবে নাই।

রাজশাহীতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০টি গাড়িতে প্রতিদিন চাঁদা ওঠে ৬ হাজার টাকা। এছাড়াও রাজশাহী হতে স্থানীয় গাড়ি ছাড়া হয় কমপক্ষে ১৫০টি। স্লিপ ছাড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন চাঁদা গ্রহণ করে গাড়ি প্রতি ১১০ টাকা। এখাতে প্রতিদিন চাঁদা ওঠে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। আন্তঃজেলা ঢাকা বাস থেকে চাঁদা গ্রহণ করা হয় প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা। আন্তঃজেলা গাড়ি রাজশাহীতে প্রবেশ করে প্রতিদিন চাঁদা গ্রহণ করা হয় ২০ হাজার টাকা। রাজশাহীতে এভাবে প্রতিদিন চাঁদা ওঠে অন্তত ৫০ হাজার টাকা। যার পরিমাণ এক বছরে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিন বছরে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবুও শ্রমিকরা শিক্ষা, ভাতা, কন্যাদায়, মৃত্যুকালীন টাকার অধিকার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত। সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী নিজস্ব শ্রমিক সদস্যদের মাঝে স্বজনপ্রীতিও করেন।

শ্রমিকরা দাবি করেন, আত্মস্বীকৃত টাকা দিয়ে মাহাতাব হোসেন নিজে সাত তলা বাড়ি করেছেন, গাড়ি করেছেন ৭-৮টি। এছাড়াও নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী অবশ্য দাবি করেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের প্রশ্নই আসে না। বরং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। জমি বিক্রি করা হয়েছে নির্বাহী পরিষদের অনুমতি নিয়ে। সেই টাকাও শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আমি কোনো টাকা আত্মসাত করিনি।’ 

ইত্তেফাক/পিও