রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রাইমারি স্কুল উচ্ছেদের পায়তারা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিশেহারা 

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ২১:৩৭

জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ পৌরসভায় অবস্থিত জিগাতলা পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উচ্ছেদের পাঁয়তারা চলছে। এতে করে বিদ্যালয়টির চলমান সরকারি উন্নয়ন কাজ বন্ধ হওয়াসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের জমি ও স্থাপনা রক্ষার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। বিদ্যালয়টি ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর থেকে সুনামের সঙ্গে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এছাড়া এলাকাবাসী ৭৯ বছরের প্রতিষ্ঠিত সুনামধন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন

জানা যায়, পাখিমারা সরকার বাড়ির বাসিন্দা প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিন ১৯৪৩ সালে বকসিগঞ্জের চরকাউরিয়া মৌজার আরওআর খতিয়ান নম্বর ২০৭, দাগ নম্বর ১২৬১, (বর্তমান বিআরএস খতিয়ান নম্বর ১৬৬৮, দাগ নম্বর ৩০৭২) বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৪৯ শতাংশ জমি দান করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থেকে ২১২ জন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা দান করে আসছেন।

প্রতিষ্ঠালগ্নে বিদ্যালয় টিনশেড ভবন থাকলেও পরবর্তীতে একতলা পাকা ফ্লাড সেন্টার কাম ক্লাসরুম নির্মিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চার তলা ফাউন্ডেশনের দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। নভেম্বর মাসে পুরাতন একতলা ভবনটি ভেঙে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে জমি দাতা প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ওয়ারিশ আনোয়ার হোসেন, রবিউল আওয়াল রবিন গং দানপত্র দলিল গোপন করে, নিজেদের জমি মালিকানা দাবি করে বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণ কাজ ব্যাহত ও বিদ্যালয় উচ্ছেদের জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি ভূমির মালিকানা দাবি করে আদালতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতাসহ ৭ জনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ারসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। 

জমির মালিকানা দাবি করা রবিউল আওয়াল রবিন বলেন, বিদ্যালয়ের জমিটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি হিসাবে বিআরএস রেকর্ড আমাদের নামে। বিদ্যালয়ের নামে কোনো জমি নেই। 

প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ও স্থাপনা রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

বকশিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনমুন জাহান লিজা জানান, তারা কেনো এমন করছে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য যা যা সাপোর্ট দেওয়া দরকার সেটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে।

ইত্তেফাক/জেএ/পিও