বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বগুড়া বিসিক শিল্পনগরীতে ১০ শতাংশ কারখানা বন্ধ

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:০৪

বগুড়ার বিসিক শিল্পনগরীতে রয়েছে ফাউন্ড্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি, তেলের মিলসহ নানা ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব শিল্পকারখানা এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করতে না পারা, ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং, এলসি খুলতে না পারা এবং ফার্নেস তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে শুধু বিসিক শিল্প এলাকায় ১০ শতাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরো ২৫ শতাংশ শিল্পকারখানা বন্ধের পথে। শুধু বিসিক শিল্পএলাকা নয়, জেলায় ফার্নেস তেলভিত্তিক বেশ কিছু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার তালোড়ার দুটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানা রয়েছে।

বগুড়ার বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান মিল্টন জানান, বগুড়া বিসিক শিল্প এলাকায় সমিতির আওতাভুক্ত ৮৬টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব শিল্পের মধ্যে ফাউন্ড্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যালুমিনিয়াম, ওষুধসহ বিভিন্ন কারখানা রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি না হওয়া, ব্যাংকে এলসি খুলতে না পারার কারণে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব শিল্পকারখানায় উৎপাদন চলছে, তাদের পণ্যের উত্পাদনখরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে। এসব কারণে ১০ শতাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরো ২৫ শতাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক গতিতে টাকা দিচ্ছে না, এলসিও খোলা যাচ্ছে না। বিদেশ থেকে এসব পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করে আনতে হয়। সেসব আনা যাচ্ছে না। যাদের কাছে এসব কাঁচামাল আছে তারাও অনেক বেশি দামে বিক্রি করছে। বিদ্যুত্সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশনায় সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার শিল্পকারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, তার ওপর প্রতি শুক্রবার এমনিতেই বন্ধ থাকে। এভাবে চলতে থাকলে শিল্পকারখানা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে তিনি জানান।

কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি আর গ্যাসসংযোগের অভাবে হারাতে বসেছে বগুড়ার অ্যালুমিনিয়াম শিল্প। জেলার তালোড়া বন্দর এলাকায় সাত দশক আগে গড়ে ওঠা এ শিল্প এলাকার অধিকাংশ কারখানা এখন হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। এক সময় এ এলাকায় ছোটবড় মিলিয়ে ৫০টির বেশি কারখানা ছিল। এর মধ্যে ২৫টি ছিল বড় কারখানা। বড় কারখানাগুলোর মধ্যে এখন টিকে আছে মাত্র একটি। আর ছোট ছোট কারখানা চালু আছে ৮ থেকে ১০টি। চালু থাকা কারখানাগুলোও এখন অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। ছোট একটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা জানান, একসময় অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রীর ব্যাপক কদর থাকলেও যুগের সঙ্গে কমতে থাকে চাহিদা। অ্যালুমিনিয়ামের বদলে প্লাস্টিক, মেলামাইন ও সিরামিক সামগ্রীর কদর বেড়েছে ঘরে ঘরে। তাতে একদিকে কমেছে অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রীর চাহিদা, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কাঁচামালের দাম। আবার তালোড়া বন্দর এলাকার অ্যালুমিনিয়াম কারখানাগুলো বছরের পর বছর চেষ্টা করেও গ্যাস-সংযোগ পায়নি। ফলে গত সাত দশকে এ এলাকার অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

তালোড়ার মোল্লা অ্যালুমিনিয়ামের কর্ণধার লতিফুল কবির বলেন, এ শিল্পের কাঁচামাল ‘অ্যালুমিনিয়াম ইনগট’ চুল্লিতে গলিয়ে পাত তৈরিতে দরকার হয় পাইপ লাইনের গ্যাস। গ্যাস ছাড়া এই শিল্প রক্ষা করা সম্ভব নয়। বগুড়ায় গ্যাস-সংযোগ আসার পর থেকে অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় গ্যাস-সংযোগের জন্য নানা জায়গায় ধরনা দিয়েছি। কিন্তু সংযোগ না পেয়ে লোকসানের মুখে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ফার্নেস তেলের যে দাম সেই তেলে পণ্য তৈরি করে লোকসান গুণতে হয়। যে কারণে তালোড়ার কারখানা এখন আর চলতে পারছে না।

ইত্তেফাক/ইআ