অনেক মন্ত্রী-এমপির ওপর ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা। গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ঢাকা বিভাগের এক বিশেষ সাংগঠনিক সভায় তৃণমূলের নেতারা এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে হলে দলকে দলের মতো চলতে হবে, এমপি-মন্ত্রীদের ইচ্ছানুসারে নয়। দলের অস্তিত্ব ঠিক থাকলে এমপি ও মন্ত্রিসভার অস্তিত্ব ঠিক থাকবে। তাই আগামী দিনে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কোন্দল মুক্ত করার দাবিও করেন তৃণমূলের নেতারা।’ আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি দলের মধ্যকার অনৈক্য ও কলহ দূর করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের শক্তিতে সংহত হতে হবে। কলহ-কোন্দল আমাদের দুর্বলতা। এই দুর্বলতার ওপর শত্রুরা আঘাত হানতে পারে। কাজেই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে’।
সভায় রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুল হাকিম দলের সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সহযোগী যে সংগঠনগুলো আছে, এগুলোর কমিটি নেই। আমরা চেষ্টা করেছি; কিন্তু ফলপ্রসূ ও কার্যকর হয়নি।’ কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরো বলেন, ‘সংগঠনের বিরুদ্ধে যারা কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কারের সুপারিশ কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে; কিন্তু দীর্ঘদিন সেন্ট্রাল কমিটি থেকে এব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।’
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক বলেন, ‘সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ আর একটি সংগঠনের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে করা হয়েছে। বাকিগুলোর কমিটি কেন্দ্র থেকে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এই সংগঠনগুলো নিয়ে আমাদের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়। যাদের আওয়ামী লীগের ঢোকার যোগ্যতা নেই; বিভিন্ন সময় তাদের দিয়েই কেন্দ্র থেকে এই কমিটিগুলো করে দেওয়া হয়। তারা কাজ করে তাদের নিজেদের মতো। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে নির্দেশনা দিতে হবে। কোনো কমিটি করতে হলে জেলা কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মহানগর আওয়ামী লীগ শক্তিশালী সংগঠন। ২০১৫ সালে মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়েছি; কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় এখনো ওয়ার্ড কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করতে পারিনি। কারণ সীমানা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা জটিলতা রয়েছে।’ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘আমাদের ৬ থানার ১২ জনের মধ্যে ৬ জনই ভারপ্রাপ্ত। এগুলো আমরা ভারমুক্ত করতে চাই। তৃণমূলের প্রশাসন এমপি-মন্ত্রীদের বেশি গুরুত্ব দেয়। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না বা নির্দেশনা দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়ে ভেবে দেখতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।’
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক বলেন, ‘আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনোভাবেই দ্বিধাবিভক্ত হওয়া যাবে না। একে অপরের বিরুদ্ধে কেউ যেন কোনো সুযোগ নিতে না পারে, তিনি এমপি-ই হন বা মন্ত্রী-ই হন। দল দলের মতো চলবে। দলের অস্তিত্ব ঠিক থাকলে মন্ত্রিসভার অস্তিত্ব ঠিক থাকবে’।
