শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির ৩০০ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ৩

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩০

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়ায় ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঐ মামলায় বিএনপির তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজদিখানে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা-মাওয়া মহসড়কের ড্রিম গ্রিন সিটির কাছের সার্ভিস সড়কে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ মো. আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করে ৪১ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরও অন্তত ৪০ জনকে আসামি করে সিরাজদিখান থানার উপ-পরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক আজিম আল রাজী ও বালুচর ইউনিয়নের বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সিরাজদিখান থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক জানান, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা-মাওয়া মহসড়কের ড্রিম গ্রিন সিটির কাছের সার্ভিস সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে মুন্সীগঞ্জ আদালতে পাঠানো  হয়েছে। তবে থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. হায়দার আলী বলেন, এটা পুলিশের সাজানো।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, কালিয়াকৈরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল থেকে আওয়ামী লীগের অফিসে ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঐ মামলায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার সাহেববাজার এলাকায় তার নিজস্ব বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই মামলার আসামি ও কালিয়াকৈর পৌরসভার কাউন্সিলর মো. সারোয়ার হোসেন আকুলকে গ্রেফতার করা হয়।  

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আকবর আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের কেয়ারটেকার মো. আব্দুল মান্নান শেখ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঐ মামলায় অভিযুক্ত ১ নম্বর আসামি  উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং পৌরসভার কাউন্সিলর ও বিএনপির নেতা মো. সারোয়ার হোসেন আকুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কাপাসিয়া (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, কাপাসিয়া উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গত বুধবার রাতে কাপাসিয়া থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করেছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজমল সরকার। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা অন্তত ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন—জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ইমরান চৌধুরী হিমু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু, সদস্যসচিব জুনায়েদ হোসেন লিয়ন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন শিশির, সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সাগর মিয়া, জাহিদ হাসান, মহিবুল ইসলাম ও মো. সোহেল। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে সরকার এসব গায়েবি মামলা দিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। কাপাসিয়া থানার ওসি এ এফ এম নাসিম জানান, বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম