রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনা

কাভার্ড ভ্যান ঢুকে গেল দোকানে, বাবা–ছেলেসহ পাঁচজন নিহত

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:০৫

ছয় বছরের শিশু সন্তান আরাবুর রহমান তাওসিন বায়না ধরেছিল বাবার সঙ্গে হোটেলে পরোটা খাবেন। ছেলের বায়না মেটাতে তাকে নিয়ে বাড়ির পাশেই বাজারে নিয়ে আসছিলেন বাবা হাবিবুর রহমান। হোটেলে ঢোকার আগেই একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান বাবা-ছেলেকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান। 

বাড়ির সামনে স্বামী আর আদরের ছোট ছেলের এমন মৃত্যুতে মুহূর্তেই নির্বাক হয়ে যান তহমিনা খাতুন। ঘটনার পর থেকে তিনি বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। কাউকে দেখলে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকছেন। কোনো কথা বলছেন না। মাঝে মাঝে সন্তানের নাম ধরে আহাজারি করছেন। স্বামী আর সন্তানহারা তহমিনার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে টুনিয়াঘরার আকাশ বাতাস। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন স্বজনরা।

বেগারীতলা বাজারের পাশের টুনিয়াঘরা গ্রামের হাবিবুর রহমান স্ত্রী কান্নাজড়িত কন্ঠে তহমিনা খাতুন বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরারে এভাবে আল্লাহ নিয়ে গেল। সন্তানের সঙ্গে আমার স্বামীরেও। আমি কী করে সহ্য করবো আল্লাহ। আমার ঘরটা ফাঁকা করে চলে গেল। আমার পাখিটা কত মা মা করে পাগল করে দেয়; আর ডাকবে না রে...আল্লাহ। টেলিভিশন দেখতে দেখতে সকালে ছোট ছেলে বায়না ধরেছিল পরোটা খেয়ে মাদ্রাসায় যাবে। সেই পরোটাও খেতে পারলো না রে...। আকাশের দিকে দুই হাত তুলে আর্তনাদ করে তিনি বলতে থাকেন, ‘কী এমন পাপ করেছিলাম আল্লাহ; যার কারণে একসঙ্গে আমার স্বামী আর ছোট ছেলেরে এভাবে কেড়ে নিতে হলো! এখন আমি কী নিয়ে বাঁচবো। আমাদের কী হবে! একসঙ্গে আমাদের দুটি প্রাণ নিয়েছে যারা তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে সরকারকে।

তহমিনা খাতুনের সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া আরেক ছেলে তাহমিদ রহমান তাজিম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে, ‘ওরে আব্বু তুমি আমাদের ছেড়ে চলে গেলে। এখন আমাদের কে দেখবে। আদরের তাওসিনও চলে গেল। আমরা যে নিঃস্ব হয়ে গেলাম!

ছবি: ইত্তেফাক

ভোজগাতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, মনিরামপুরে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের ব্যাগারীতলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তারপাশে হোটেলে উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে বাবা ও ছেলেসহ পাঁচ জন নিহত হন।

স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, মনিরামপুর সাতক্ষীরা সড়ক প্রশস্ত হওয়ার পরে এই সড়কের গাড়িগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই এই সড়কের কোনো না কোনো স্থানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছেই। তাই তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের টহল জোরদার করার অনুরোধ করেন।

মণিরামপুর থানার ওসি শেখ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ৪ জনের লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর এক শিশুর লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  ড্রাইভার ও হেলপার পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। 

ইত্তেফাক/আরএজে