সামনে বসে পশুর হাট

দাউদকান্দির ট্রমা সেন্টার নিজেই এখন ট্রমায়

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:০০

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগরে অবস্থিত ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণের ১৬ বছর ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণের পর বিগত দুই সরকারের আমলে দুজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুই দফা এর উদ্বোধন করেন, চালুও হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জনবল ও ওষুধের সরবরাহ না থাকাসহ নানা সংকটে সেন্টারটি এখন পঙ্গুদের চিকিৎসার পরিবর্তে বছরের পর বছর ধরে নিজেই যেন পঙ্গু হয়ে আছে। দেখলে যে কারো মনে হবে এটি একটি পরিত্যক্ত ভবন, ভুতুড়ে বাড়ি। এই সেন্টারের সামনে এখন পশুর হাট বসে।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় এলাকার লোকজন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন মহাসড়কের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত জেলার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগরে অবস্থিত ট্রমা সেন্টারটি দুর্ঘটনায় আহতদের তাত্ক্ষণিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য নির্মাণ করা হয়। এখন সেই হাসপাতালটি (ট্রমা সেন্টার) জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ বরাদ্দ না দেওয়ায় সম্ভাবনাময় এ সেন্টারটি উদ্বোধনের পর ১৬ বছর ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। বর্তমানে এখানে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও এনেসথেসিওলজিস্টের পদ শূন্য আছে। একজন অর্থোপেডিক সার্জন থাকলেও অপারেশনের ব্যবস্থা না থাকায় তিনি কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে সংযুক্তিতে কর্মরত আছেন। তিন জন মেডিক্যাল অফিসার থাকলেও রোগী না থাকায় একজন ট্রমা সেন্টারে, অপর দুইজন দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। নার্স ও চিকিৎসক সহকারী আছেন তিন জন।

স্থানীয়রা জানান, এই ট্রমা সেন্টারটির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় দুর্ঘটনায় আহত কোনো রোগী চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। বর্তমানে এখানে দুর্ঘটনায় আহত রোগীর পরিবর্তে মাথাব্যথা, জ্বর ও সর্দি-কাশির চিকিৎসা হয়। সেন্টারটির চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, ট্রমা সেন্টারের নেই সীমানা প্রাচীর, স্টাফদের আবাসিক ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় তা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। আছে খাবার পানি সংকটও। নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও রোগী ভর্তির ব্যবস্থা।

মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারজানা আক্তার বলেন, বহির্বিভাগে সাধারণ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় আহতদের এখানে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা আপাতত নেই। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ-আল-হাসান জানান, ট্রমা সেন্টার চালু করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতিসহ যা যা প্রয়োজন তা পেতে সম্প্রতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। সরকার পদক্ষেপ নিলে দুর্ঘটনায় আহতরা ঢাকায় না গিয়ে এখানেই উন্নত সেবা পাবে। কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, এ ট্রমা সেন্টারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত জড়িত। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম