নওগাঁয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল রাজার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে দখল করে পুকুর খনন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্তাদের যোগসাজশে রাণীনগর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের দক্ষিণ মাঠে ভাজালিয়া মৌজায় ওই সম্পত্তিতে গত কয়েকদিন থেকে পুকুর খনন করছেন।
১৯ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ পান রাজা। এরপরই কয়েক দিনের মাথায় তিনি রাণীনগর উপজেলার ওই সরকারি খাস জমিতে পুকুর খনন করায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল রাজা আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি এবং আত্রাইয়ের দিঘীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত দুলাল।
জানা যায়, রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের ভাদালিয়া গ্রামের দক্ষিণ মাঠে সরকারি বেশকিছু খাস সম্পত্তি রয়েছে। ওই মাঠের পার্শ্ববর্তী আত্রাইয়ের দিঘীরপাড় গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল রাজারও ওই মাঠে জায়গা-জমি আছে। জমির পাশে জমি হওয়ার সুযোগে দীর্ঘদিন আগে ভাদালিয়া মৌজার মধ্যে একদাগে এক একর (তিন বিঘা) সরকারি মাটিয়াল খাস সম্পত্তি দখলে নেন তারা। এতে করে স্থানীয় ভাদালিয়া গ্রামের অনেক ভূমিহীন সরকারি ওই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্তাদের যোগসাজশে রাজার পরিবার ওই তিন বিঘা খাস সম্পত্তি সরকারিভাবে পত্তন নিয়েছেন বলে ভোগ দখল করে। এর মধ্যে জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করেই অবৈধভাবে গত কয়েকদিন আগে থেকে ওই খাস জমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে দিন-রাতে মাটিয়াল জমিতে গভীর পুকুর খনন করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাদালিয়া গ্রামের কয়েকজন বলেন, সরকারি ওই খাস সম্পত্তিতে পুকুর খননের বিষয়টি প্রথম থেকেই স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস জানতো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে স্থানীয় ভূমি অফিস কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
মনিয়ারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল রাজা পুকুর খননের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ১৯৬৭ সাল থেকে ওই জমি আমরা লিজ নিয়ে ভোগ দখল করে আসছি। ওই জমি আগে থেকেই গভীর ছিলো। কয়েক বছর থেকে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঠিক মতো মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছিল না। মাছ চাষ করতেই পুকুর খনন করে পাড় বেধে নিয়েছি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলার পারইল-বড়গাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার মোস্তাফিজুর বলেন, সরকারি খাস জমি পুকুর খনন করার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। খবর পেয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে এসেছি। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠাব।
রাণীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিলো। সরকারি সম্পত্তিতে পুকুর খননের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পুকুর খননকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
