বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইরান, চীন, রাশিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:১৪

ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যেসব দেশের অবস্থান উদ্বেগের কারণ তাদের তালিকায় চীন, রাশিয়া ও ইরানের নাম যুক্ত করেছে আমেরিকা। তালিকায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারও। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় নাইজেরিয়ার সংবাদ সংস্থা ভ্যানগার্ড নিউজ।

ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন, দেশগুলোতে এমন অনেক কর্মকাণ্ড চলছে, যাতে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। আলজেরিয়া, কোমোরোস, ভিয়েতনাম সতর্ক থাকার দেশের তালিকায় রয়েছে। 

শুধু দেশ নয়, কয়েকটি সংস্থাকেও বিপজ্জনক ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। যেমন ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ 'ওয়াগনার গ্রুপ'। এটি একটি বেসরকারি আধাসামরিক সংস্থা। সংগঠনটি সিরিয়া, আফ্রিকা, ইউক্রেনে সক্রিয়। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন

ব্লিঙ্কেন জানান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ওয়াগনার গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। 

বিবৃতিতে ব্লিঙ্কেন বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি সংস্থা নির্বিচারে মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি, কারারুদ্ধ ও হত্যা করছে। এ ধরনের নির্যাতন আমেরিকা মেনে নেবে না।'

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি সংস্থা নির্বিচারে মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি, কারারুদ্ধ ও হত্যা করছে।

ইরানে দীর্ঘদিন ধরে হিজাব বিরোধী আন্দোলন চলছে। মাহশা আমিনি নামে ২২ বছর বয়সী এক কুর্দি তরুণীকে হিজাব না পরার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেফাজতে তিনি মারা যান। এরপরই ইরানে আন্দোলন শুরু হয়। অনেক নারী রাস্তায় দাঁড়িয়ে হিজাব জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। মেয়েদের পাশাপাশি অনেক পুরুষও রাস্তায় নেমে আসে। 

ইরান এই বিক্ষোভকে সরকার বিরোধী আন্দোলন হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে, আমেরিকার প্ররোচনা রয়েছে। ইরানে মেয়েদের জন্য রক্ষণশীল পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। এ নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছে নানা আলোচনা। 

ইরান এই বিক্ষোভকে সরকার বিরোধী আন্দোলন হিসেবে দেখছে।

কিন্তু ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম ইসলামিক রিপাবলিক এমন জ্বলন্ত বিক্ষোভ দেখেছে। জাতিসংঘের মতে, এ পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ হাজার মানুষকে। জাতিসংঘও ইরানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। অবিলম্বে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

বিবৃতিতে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অঞ্চলে অন্তত ১ কোটি উইঘুর বাস করে। বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। স্বাভাবিকভাবেই, বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এসব দেশ ছাড়াও পাকিস্তান, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, নিকারাগুয়া, কিউবা ও পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা। ব্লিঙ্কেন পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদা এবং এর চার নেতাকে বিশ্বের কাছে সন্ত্রাস বলে উল্লেখ করেছেন। 

তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের সরকার এই জঙ্গিদের কোনোভাবেই আফগানিস্তানে সক্রিয় হতে দেবে না। বিশদ বিবরণ অনুসারে, 'আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট' (একিউআইএস) এর ওসামা মেহমুদ, আতিফ ইহা ঘোরি ও মোহাম্মদ মারুফ সংগঠনে জঙ্গি নিয়োগের জন্য দায়ী। 

 এই জঙ্গিদের কোনোভাবেই আফগানিস্তানে সক্রিয় হতে দেবে না।

আরেক সন্ত্রাসী সংগঠন 'তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান' এর ক্বারি আমজাদ পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের দায়িত্বে রয়েছেন। আলাদাভাবে এই চার জঙ্গি নেতাকে আমেরিকা নিষিদ্ধ করেছে।

ইত্তেফাক/ডিএস