শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আশ্রয় প্রক্রিয়া সহজ করতে জার্মান পার্লামেন্টে আইন পাস

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:৫০

বসবাসের অনুমতি পাওয়ার অধিকার বা চান্সেনআউফেন্টহাল্টসরেশ্ট নামে শুক্রবার জার্মান পার্লামেন্টে একটি বিল পাশ করেছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা৷ অভিবাসন আইন সংস্কার পরিকলল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন জোট সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি), গ্রিন পার্টি এবং ফ্রি ডেমোক্র্যোটিক পার্টি (এফডিপি)৷ 

কী আছে আইনে

নতুন এ আইনের আওতায় ডুলডুংধারী যেসকল বিদেশি জার্মানিতে পাঁচ বছর ধরে অবস্থান করছেন তারা ১৮ মাস থাকার অনুমতি পাবেন৷ চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বসবাসের সময়সীমা পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে এই আইনের আওতায় তারা ইতোমধ্যেই সুবিধাটি পাবেন৷ তবে কারো বিরুদ্ধে অপরাধের সাথে যুক্ত না থাকার প্রমাণ থাকতে হবে৷      

দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে থাকতে এই ১৮ মাস সময়ে প্রয়োজনীয় ভাষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে৷ সেই সঙ্গে নিজের জীবিকার ব্যবস্থাও করতে হবে৷ 

তবে নতুন আইন অনুযায়ী, ১৮ মাসের সুযোগ আর বাড়ানো হবে না৷ অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে থাকার শর্ত পূরণ করতে না পারলে তাকে ডুলডুং ক্যাটাগরিতে ফেরত যেতে হবে৷  

তাছাড়া নতুন আইনে, জার্মানির আশ্রয় আবেদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বিএএমএফ আর আবেদনকারী ব্যাক্তির আন্তর্জাতিক সুরক্ষার বিষয়টি নিয়মিত যাচাই বাছাই করবে না৷ শুধু প্রয়োজন হলে অর্থাৎ আবেদনকারী ব্যক্তির দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি ঘটলেই কেবল এই বিষয়টি যাচাই করা হবে৷     

শুক্রবারের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ভোটে তিনশ ৭১ জন বিলের পক্ষে ভোট দেন৷ ২২৬জন সাংসদ বিলের বিপক্ষে এবং ৫৭ জন ভোট দানে বিরত থাকেন৷

নতুন আইনের কী প্রভাব?

সরকারের হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত জার্মানিতে ডুলডুং নিয়ে বসবাসরত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার৷ তাদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার জনের বসবাসের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে৷ 

সরকারের ধারণা, নতুন আইনের আওতায় মোট ৯৮হাজার জন চান্সেনআউফেন্টবাল্টরেশট বা ১৮ মাসের ভিসার সুবিধা পেতে আবেদন করতে পারে৷ তার মধ্যে ৩৩ হাজার ৫০০ জন দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে থাকার অনুমতি পেতে পারেন৷

উল্লেখ্য ‘ডুলডুং’ হচ্ছে একধরনের সাময়িক থাকার অনুমতি যা ব্যবহার করে অনিয়মিত অভিবাসীরা জার্মানিতে কিছুদিনের জন্য থাকতে পারেন৷ এটি দেশটিতে নিয়মিত বসবাসের কোনো অনুমতিপত্র নয়, বরং ফেরত যেতেই হবে এই বাধ্যবাধকতা মেনে নিয়ে কিছুদিনের জন্য থাকার একটি সুযোগ৷ তবে এই সুযোগ অনেকের ক্ষেত্রে কিছুদিন পরপর বাড়ানো হয়৷  

ডুলডুং সাধারণত তাদের দেয়া হয় যাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন বাতিল হয়েছে বা যারা জার্মানিতে থাকার পূর্ণ অনুমতি পাননি৷ এক্ষেত্রে এমন মানুষরা গুরুত্ব পান যাদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হলেও দেশে ফেরত পাঠানো নিরাপদ নয়৷ আশ্রয়প্রার্থী অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা আশ্রয়ের আবেদন করার পর যারা পড়াশোনা বা কোনো প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তাদেরও ডুলডুং দেয়া হয়ে থাকে৷

ইত্তেফাক/এএইচপি