বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান প্রধান শিক্ষিকা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭:১৫

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জোরিনা খাতুনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার ভানুডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। 

রোববার (৫ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টি কাজিপুর উপজেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদারকিও কম হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রধান শিক্ষিকা জোরিনা খাতুন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। এবং সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও প্রাক-প্রাথমিক সজ্জিতকরণসহ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জামের অর্থ কাজ না করেই উত্তোলন করেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ে গিয়ে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বাড়িতে চলে যান। এছাড়া সরকারি বরাদ্দের টাকায় উপকরণ ক্রয় না করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে আসছেন না বলে জানা গেছে। 

প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত পাঠদান করান কিনা জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বলেন, বড় ম্যাডাম স্কুলে এসে এগারো-বারোটার দিকেই চলে যান। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই চলে যান। আমরা কিছু বললেই তিনি রেগে যান। বিষয়টি এটিও এবং টিও স্যারকে বলেও কোনো লাভ হয়নি। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা জোরিনা খাতুনের মুঠোফোনে ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি আমি ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছি। এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুখময় সরকার ইত্তেফাককে বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/বুখারী/পিও