শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আত্মসমর্পণের ৯ মাসেও হয়নি জামিন শুনানি

  • ২০৪ কোটি টাকার অর্থ পাচারের মামলায় ফের জামিন আবেদন
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২২:০০

২০৪ কোটি টাকা অর্থ পাচারের মামলা। মামলার আসামি আবু আহাম্মদ ওরফে আবুকে বিশেষ জজ আদালতে তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। কিন্তু সময়মতো ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নথি না পৌঁছা, আসামির একাধিকবার সময় আবেদন মঞ্জুরের কারণে গত নয় মাসেও হয়নি জামিন শুনানি। এখন ওই আসামি হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন চেয়েছেন। 

ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ। 

শুনানির এক পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, আত্মসমর্পণের পর আসামিকে জামিন দেবে না হয় কারাগারে পাঠাবেন বিশেষ আদালতের বিচারক। সেটা না করে বিশেষ আদালতের বিচারক বারবার সময় আবেদন মঞ্জুর করে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রেখেছেন। আর একের পর এক আসামির সময় আবেদন মঞ্জুর করে নয় মাস কাটিয়ে দিয়েছেন।

২০৪ কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু আহাম্মদসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ কোতয়ালি থানায় মামলা করে সিআইডি। 

সেই মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিএফআইইউ থেকে প্রাপ্ত ব্যাংক হিসাব বিবরণী, কাগজপত্র পর্যালোচনা, লেনদেনের ধরন এবং আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, আসামিরা একে অপরের সহায়তায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েকটি ব্যাংক হিসাব নম্বরে ১২ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণ চোরাচালান, চোরাই ও অন্যান্য দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা ও হুন্ডির মাধ্যমে ২০৪ কোটি টাকার পাচারের অর্থ দিয়ে গাড়ি, বাড়ি ও মার্কেটসহ বিভিন্ন সম্পত্তি অর্জন করেছেন।

এই মামলায় হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান ওই আসামি। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আসামিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর ২২ ফেব্রুয়ারি আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন দাখিল করেন। চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. ইসমাইল হোসেন নথি তলব পূর্বক ৫ মে জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখেন। কিন্তু চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নথি না আসায় জামিন শুনানি হয়নি। এরপর ১৩ জুলাই দিন ধার্য রাখা হলেও নথি না আসায় জামিন শুনানি হয়নি। এরপর ধার্য তারিখে নথি না আসায় ৩১ আগস্ট নথি উপস্থাপনপূর্বক ৫ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করে আদালত। এভাবে আরও কয়েকবার শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করেন আসামি। এসব আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। গত ১৩ নভেম্বর আসামির সময় আবেদন না মঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। 

বিশেষ আদালতের আদেশে বলা হয়, গত নয় মাস যাবত জামিন শুনানি না করে আসামি সময়ের দরখাস্ত দিয়ে আসছেন। যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং উচ্চ আদালতের আদেশ অবমাননার শামিল। এরপরই ওই আসামি পুনরায় হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন চান।

আসামি পক্ষে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও জাকির হোসেন শুনানি করেন। তারা আদালতের কাছে আবেদনের ওপর নির্দেশনা চান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক এর বিরোধিতা করে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিশেষ আদালতে নথি পৌঁছা এক ঘণ্টার ব্যাপার। কিন্তু কেন এতোদিনেও নথি পৌঁছাল না এর সুবিধাভোগী এই আসামি। আসামিকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হোক। আবার আত্মসমর্পনের নির্দেশনা দেওয়া হলে হয়ত সে বারবার সময় নিয়ে আবারো বিষয়টিকে বিলম্বিত করবে। শুনানি শেষে আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত। 

আসামির আইনজীবী ফারিয়া বিনতে আলম বলেন, ‘আসামির কোন দোষ নাই। রেকর্ড না যাওয়ার কারণে জামিন শুনানি হয়নি। পরে অসুস্থ থাকার কারণে আদালতে হাজির না হতে পারায় সময় আবেদন খারিজ করে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘মামলার চার্জশিট দাখিল হয়েছে। তবে তা আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়নি।’

 

ইত্তেফাক/এএএম