রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির কারণ ছিল ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের প্রতি দুই দেশের অঙ্গীকার’

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শীর্ষক আলোচনা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:৪৭

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, ‘১৯৭১-এর ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধরত বাংলাদেশকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারত ও ভুটান। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধরত রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ সরকার এবং বাঙালি জাতিকে ভারতের এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি এক বিশাল উদ্দীপনায় উজ্জীবিত করেছিল। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈধতা দিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ত্বরান্বিত করেছে’।

তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের এক কোটি সহায়সম্বলহীন শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক জনমত সংগঠিত করেছে। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭ হাজার সদস্য শহীদ হয়েছেন। অন্য কোন দেশকে স্বাধীন করার জন্য এ ধরনের আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতির অন্যতম কারণ ছিল ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের প্রতি দুই দেশের অঙ্গীকার। রক্তের বন্ধনে রচিত এই বন্ধুত্ব শত প্রতিকূলতার ভেতরও অটুট রয়েছে’।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায়, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় এস. রহমান মিলনায়তনে লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি-নিউইয়র্কের সাধারণ সম্পাদক ও নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ জয়েন্ট সেক্রেটারী মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন, চসিকের ১নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী শফিউল আজিম ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শৈবাল চৌধুরী।

সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলার সম্মেলন প্রস্ততি কমিটির সদস্য সচিব মো. অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন- সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী ও মো. হেলাল উদ্দিন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান তারেক, জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, এম.এ মান্নান শিমুল, অ্যাডভোকেট মো. সাহাব উদ্দিন, রুবেল চৌধুরী, রাজীব চৌধুরী রাজু, সুচিত্রা গুহ টুম্পা, কানিজ ফাতেমা লিমা, অথৈ মজুমদার অনিন্দ্য, সাজ-সজ্জা উপ কমিটির আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সদস্য সচিব দেবাশীষ আচার্য্য, প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, অর্থ উপ-কমিটির সদস্য সচিব মো. সাজ্জাদ উদ্দিন, বায়েজিদ থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব সোহেল, বাঁশখালী শাখা সাধারণ সম্পাদক আজমীরুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামশেদুল ইসলাম চৌধুরী, চান্দগাঁও শাখা আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমদ, মো. রিদুয়ান চৌধুরী, ডবলমুরিং থানা কমিটির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন ছগীর ও সদস্য সচিব জাহেদুল আলম মুরাদ, রিমা আকতার, খুলশী থানা শাখার রোকসানা দিতি, পাহাড়তলী থানা শাখার মুক্তা আহমেদ, কোতোয়ালী থানা শাখার টুটুল দাশ, শুভ দাশ, জীবন দাশ, উজ্জ্বল দাশ, শ্যামল ভট্টাচার্য্য, মোস্তফা কামাল চৌধুরী, ছলিম উল্লাহ, রিনা বেগম, রিনা, মোহাম্মৎ রেশমী আকতার, ছাত্রলীগ নেতা মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী জীবন ও শওকত ওসমান তানজির প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে শওকত বাঙালি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ’।

ইত্তেফাক/এসসি