নয়াপল্টনেই অনড় বিএনপি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:৩৩

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। সৃষ্টি হচ্ছে নানা শঙ্কা। নয়াপল্টন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে রাজধানীর তৃতীয় কোনো জায়গায় সমাবেশ করা নিয়ে এখনো একমত হতে পারেনি বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসন। 

ঢাকা মহানগর পুলিশ গতকাল বলেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না গেলে টঙ্গীর তুরাগ তীরের ইজতেমা মাঠ বা পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার মাঠে বিএনপির সমাবেশ করার সুযোগ আছে। তবে বিএনপি নেতারা পুলিশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, পুলিশের কথা মতো এই তিন ভেন্যুর কোনোটিতেই যাবে না। গতকাল দলটি ঘোষণা দিয়েছে, তাদের চাহিদা মতো বিকল্প না দিলে নয়াপল্টন এলাকায় হবে তাদের সমাবেশ। 

ইতিমধ্যে দূরের জেলাগুলো থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকা পৌঁছাতে শুরু করেছেন। গতকাল নয়াপল্টনের বিএনপি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, লোকে লোকারণ্য। সেখানে মাইক স্থাপন করে ছাত্রদল নেতারা অনবরত স্লোগান দিচ্ছেন। ভেতরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নেতাদের সঙ্গে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছেন। তবে কর্মীদের ক্ষোভ স্থায়ী কমিটির সদস্য বা সিনিয়র নেতাদের কাউকে তারা নয়াপল্টন অফিসে পাচ্ছেন না। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, সরকার আমাদের বিকল্প স্থানের প্রস্তাব না মানলে নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে ।

  • আজ থেকে পাড়া-মহল্লায় পাহারায় থাকবে আওয়ামী লীগ: কাদের  

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুরে ছাত্রলীগের ৩০ তম জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আজ বুধবার থেকে সব পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারায় থাকবে। ডিসেম্বরে খেলা হবে বিএনপির বিরুদ্ধে, ভুয়া ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে, আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। প্রস্তুত হয়ে যান।

এদিকে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির গণসমাবেশের স্থান নিয়ে সরকারের সঙ্গে দলটির যে দ্বান্দ্বিক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধান হয়ে যাবে। আপনি কি মনে করেন, তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে, নাকি সরকার আরামবাগে অনুমতি দেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেটাই হোক, একটা সমাধান হবে।

  • অবশ্যই ঢাকায় গণসমাবেশ হবে: ফখরুল

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে এক গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সমাবেশ নিয়ে মনে কোনো দ্বিধা রাখবেন না। সেদিন অবশ্যই ঢাকায় সমাবেশ হবে। সেদিন থেকেই মানুষ নতুন স্বপ্ন দেখবে। তিনি বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি আমাদের চলমান আন্দোলন বানচাল করতে ২০০ বাস নাকি পোড়ানোর জন্য রেডি করা হয়েছে। ছাত্রলীগ নামধারী নেতাদেরকে রেডি রাখা হয়েছে আমাদের মোকাবিলা করতে। কিন্তু আমরা বলছি—সরকার আবারও পুরোনো খেলায় মেতেছে। তবে জনগণ আজকে জেগে উঠেছে। ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হব। এই গোলটেবিল আলোচনায় রাশিয়া, ইরান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমাদের সমাবেশে বাধা দেবেন না। কিন্তু হচ্ছে তার উলটোটা। ইনশাআল্লাহ ১০ ডিসেম্বর সরকার বিদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। হয়তো সরকার শেষ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু ভয় পাওয়া যাবে না। ইনশাআল্লাহ বিজয় হবে।

সন্ধ্যায় দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করতে বিএনপি অনড়। তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই হবে সমাবেশ। আমাদের দলের পক্ষ থেকে ডিএমপি কার্যালয়ে প্রতিনিধিদল গিয়ে অন্য যেখানে সমাবেশের প্রস্তাব দিয়ে এসেছে সেটাও তো পুলিশ প্রশাসন শুনছেন না। তারা নাকি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের বিষয়ে অনড়। পুলিশ প্রশাসন যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনড় থাকে আমরা এখানে (নয়াপল্টনে) সমাবেশের বিষয়ে অনড়। বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশের কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য এক পরিকল্পিত নীলনকশায় মেতেছে আওয়ামী সরকার।

  • পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি; সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অনিরাপদ। আমরা সেখানে কোনো সমাবেশ করব না। আমরা দায়িত্ব নিয়ে বলেছি; অতীতে বিএনপি অফিসের সামনে অনেক সমাবেশ হয়েছে। মহাসমাবেশ হয়েছে। অফিসের সামনে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। ডিএমপির অনুরোধে আমরা পরবর্তী সময়ে বলেছি, বিএনপির পার্টি অফিসের পাশে আরামবাগ আইডিয়াল স্কুলের সামনে যে স্থানটি রয়েছে, আশপাশে মাঠও আছে। আমাদের সমাবেশের দিনটি বন্ধের দিন। সেখানে আমরা প্রোগ্রাম করতে পারি, বিকল্প হিসেবে। আমরা তাদের কাছে সেই সহযোগিতা কামনা করেছি। যদি তা না করেন, তাহলে দায়-দায়িত্ব তাদের ওপরে বর্তাবে। নয়াপল্টন এরিয়াতেই আমাদের থাকতে হবে। কারণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর এখন আর উদ্যান নেই, এটি পার্কে পরিণত হয়েছে। আর সেখানে অনেক ধরনের ষড়যন্ত্র লুকায়িত আছে। এটা আমরা জানি, বুঝি। সেই কারণে আমরা মনে করছি এটি অনিরাপদ।

 

 

ইত্তেফাক/ইআ