বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ধ্বংস ছাড়া বিএনপি কিছুই করতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:২৮

ধ্বংস করা ছাড়া বিএনপি কিছুই করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে বার বার নির্বাচিত করেছে বলেই দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। 

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলেই কক্সবাজারে উন্নয়ন করতে পেরেছি। পরপর তিনবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। ধারাবাহিকভাবে ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি আছে বলেই, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাচ্ছে।

২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধশীল রাষ্ট্র হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার পরবর্তী বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর এই কক্সবাজার তথা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের প্রতি কেউ মুখ ফিরে তাকায়নি। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কক্সবাজারকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলো। ২০০১ সালে আবার বিএনপি ক্ষমতায় এলে সে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে দেয়। কিন্তু, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে কক্সবাজারে ১২টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে ২৯টি প্রকল্প সমাপ্ত করতে পেরেছি আমরা। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেললাইন, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎপ্রকল্প অতি সহসা পরিপূর্ণ হলে এর সুফল কক্সবাজারবাসীসহ পুরোদেশ ভোগ করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে আমরা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। যত দ্রুত সম্ভব তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। সেখানে গ্রেনেড হামলা করেছিলো খালেদা-তাকের গং। এতে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা খালেদা জিয়াদের কাজ। পেট্রোল সন্ত্রাসে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। জামাত-বিএনপি হত্যা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। অস্ত্র চোরাকারবারের মামলায় অভিযুক্ত তারেক জিয়া চক্র জঙ্গীবাদের মদদদাতা। তারা ধ্বংস ছাড়া কিছুই পারে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বাবা, মা ও ভাই সকলকে হারিয়েছি। নতুন করে হারানোর কিছু নেই। হারানোর কষ্ট কি আমার চেয়ে কেউ ভালো বুঝবে না। আপনাদের মাঝে বাবা, মায়ের স্নেহ, ভাই-বোনের ভালোবাসা পাওয়ার আশা করি। আপনারা আমার পরিবার। আপনারা আমাকে আগলে রেখেছেন। আমার একমাত্র চাওয়া আমি যতক্ষণ ক্ষমতায় থাকবো দেশের মানুষের আহার ও সংস্থান করা আমার কাজ। টিসিবির মাধ্যমে সস্তায় চাল, ডাল, তেল, চিনি পাওয়ার সু-ব্যবস্থা করেছি। এদের একজন মানুষও অভূক্ত থাকবে না। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশীল দেশে রূপান্তরের কাজ চলছে। ২০৪১ সালে আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছাব ইনশাল্লাহ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে কোনো মানুষ ঠিকানাহীন, গৃহহীন থাকবে না।

কক্সবাজারের পর্যটনকে ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকনাফের সাবরাংয়ে বিদেশিদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন করা হচ্ছে। দীর্ঘ সৈকতের সবখানেই পর্যটন বিস্তৃত করার কাজ চলছে। গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন নতুন পর্যটন স্পট। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (কউক) দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে কক্সবাজার।

প্রধানমন্ত্রী সবশেষে বলেন, আমাদের যথা সাধ্য কক্সবাজারে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালে জাতীয় নির্বাচন। চলমান উন্নয়ন বিবেচনা করে নৌকায় ভোট চাই। আমার জন্য দোয়া করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, আবার আসিব ফিরে, এই সৈকতের তীরে। খোদা হাফেজ। 

এর আগে, সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে নেতা-কর্মীরা দলে দলে আসতে শুরু করে। অনেকেই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে স্লোগানে স্লোগানে জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন। বিশেষ রঙের টি-শার্ট ক্যাপ পরিধানের পাশাপাশি বিভিন্ন নেতার ছবিসহ প্লেকার্ড ও নৌকার নানা কারুকাজ তাদের হাতে দেখা যায়। চকরিয়া পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, কুতুবদিয়া-মহেশখালী আসনের আশেক উল্লাহ রফিক ও কক্সবাজার সদর ও রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা জনসভায় আসেন। জনসভাস্থল শেখ কামাল স্টেডিয়ামে তিনটি প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। যার একটি ভিআইপি গেইট। এর মধ্যে সিনিয়র নেতা ও বিশেষপ্রাপ্ত। অপরটি সাধারণ জনগণের জন্য। নেতা কর্মীদের দাবি জনসভায় কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সহ সভাপতি রেজাউল করিম ও এম এ মনজুরের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রেখেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, সিরাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, মাহবুবুল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছির, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ড. হাসান মাহমুদ, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, আমিনুল হক আমিন, আশিকুর রহমান, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, জাফর আলম এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, কানিজ ফাতেমা আহমেদ এমপি, প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, মাহবুব মোর্শেদ, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, আলমগীর চৌধুরী, শহীদুল্লাহ শহীদ, সিরাজুল ইসলাম বাবলা, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, তারেক বিন ওসমান, শামশুল আলম মণ্ডলসহ আরও অনেকে।

দুপুর বারোটার পর কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জনসভার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর কক্সবাজারের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা একে একে বক্তব্য রাখছেন। ১১টা থেকে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এদিকে, বুধবার সাড়ে ১১টার পর প্রধানমন্ত্রী উখিয়া উপজেলার সমুদ্র তীরবর্তী ইনানীতে বাংলাদেশসহ ২৮টি দেশের নৌ বাহিনী ও উপকূলীয় সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৪ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ-২০২২ এর উদ্বোধন করেন।

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আসা নেতা-কর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা না চাইতেই অনেক কিছু দিয়েছেন, কক্সবাজারে অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। আগামীতেও আওয়ামী লীগের সরকার চাই। শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় আসবেন। বার বার ক্ষমতায় আসবেন। এটাই তাদের প্রত্যাশা। 

নেতা-কর্মীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার মা, লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এই রোহিঙ্গার কারণে কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠায়।

কক্সবাজারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা স্থগিত: কক্সবাজারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। বুধবার পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ পরীক্ষাটি ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে। 

কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করেন স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে জনসমাগমে ভোগান্তি বিবেচনায় শহরের ভেতরের প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা স্থগিত করেছেন। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত না।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় ছিলো। পুলিশের সদস্যরা পুলিশের পোশাক ছাড়াও সাদা পোষাকে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাজানো হয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সঙ্গে ছিলো কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি।

 

 

ইত্তেফাক/পিও