শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রোনালদোকে ছাপিয়ে অচেনা রামোসই এখন বড় তারকা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৪

পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে বড় হয়ে উঠেছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর না থাকা। সিআরসেভেন নেই, এটা নিয়ে স্বয়ং পর্তুগিজ সমর্থকরাও বিস্মিত হয়েছেন! কোচ ফার্নান্দো সান্তোষ রোনালদোকে একাদশের বাইরে রাখার দুঃসাহসই দেখিয়েছেন। ম্যাচে ফল উলটে গেলে সান্তোষের মুণ্ডপাত হতো তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু পর্তুগাল সুইসদের যেভাবে বিধ্বস্ত করে জিতল তাতে সবাই অবাক। ম্যাচে ফেভারিট ছিল পর্তুগালই। তাই বলে ৬-১ গোলে পর্তুগিজরা জিতবে এমনটা কেউ কি ভেবেছিলেন?

রোনালদোকে শুরুর একাদশে না নামিয়ে যাকে নামানো হলো সেই গনসালো রামোসই আসলে অভাবনীয় সাফল্য এনে দেওয়ার নায়ক। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করে ম্যাচে সব আলো নিজের দিকে করে নিয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতেই নিজেদের সেরা খেলাটি উপহার দিল পর্তুগাল। আর এতেই ২০০৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার কোয়ার্টারে উঠল পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রোনালদোকে দ্রুতই মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলেন পর্তুগিজ কোচ। এর জেরে কোচের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রোনালদো। সান্তোষ সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রোনালদোর জায়গায় বছর একুশের রামোসের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন রামোস একেবারে হ্যাটট্রিক করে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে পর্তুগালের হয়ে ২১ বছর ১৬৯ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড গড়লেন। এই রেকর্ড এতদিন ছিলেন তারই স্বদেশি কিংবদন্তি ইউসেবিওর। ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ইউসেবিও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ২৪ বছর ১৭৯ দিনে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সেই ম্যাচটি ছিল রূপকথার মতো। ম্যাচে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল কোরিয়া। সেখান থেকে ৫-৩ গোলে জেতে পর্তুগাল। একাই ৪ গোল করেছিলেন ইউসেবিও।

এ ম্যাচের শুরু থেকেই সুইজারল্যান্ড পর্তুগালের সঙ্গে পেরে উঠতে পারেনি। ১৭ মিনিটে হোয়াও ফেলিক্সের পাস পেয়ে বাঁ পায়ের শটে সুইসদের জালে বল জড়িয়ে দেন রামোস। ৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে গোল পেয়ে যান পেপে। কার্যত তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সুইজারল্যান্ড। বিরতির পর ৫১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং পর্তুগালকে ৩-০ গোলের লিড এনে দেন রামোস। এর চার মিনিট পর আরো একটি গোল পেয়ে যায় পর্তুগাল। সেই গোলেও ছিল রামোসের অবদান। তার পাস থেকে এবার গোল করেন রাফায়েল গেরেরো। এর তিন মিনিট পর ব্যবধান কমান সুইজারল্যান্ড। কর্নার থেকে পাওয়া বল টোকা দিয়ে জালে জড়ান মানুয়েল আকুনজি। আট মিনিট পরই পালটা আক্রমণে গোল করে হ্যাটট্রিক করে বসেন রামোস। ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথমবার শুরুর একাদশে নেমেই হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখালেন।

 

ইত্তেফাক/ইআ