রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নিউরোসার্জন প্রয়োজন ১৬০০, আছেন ২১২ জন

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:০৩

বর্তমানে নিউরো সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের চিকিৎসা বাংলাদেশ করতে সক্ষম। তবে প্রয়োজনের তুলনায় দক্ষ লোকবল কম। স্নায়ুবিক রোগের চিকিৎসার জন্য নিউরোসার্জন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ২১২ জন নিউরোসার্জন রয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজন ১ হাজার ৬০০ জন নিউরোসার্জন।

গতকাল বুধবার দুই দিনব্যাপী ‘নিউরোস্পাইন সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ (এনএসএসবি)-এর চতুর্থ জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার রাতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একটি হোটেলে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নের ফলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে। দেশের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ওষুধ শিল্পের বিপ্লব ঘটেছে। দেশের ওষুধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসব শিল্পের দ্বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই উন্মুক্ত হয়েছে। মেয়র বলেন, স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নের কারণে করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ২১২ জন নিউরোসার্জন রয়েছেন। কিন্তু দেশের জনগণ অনুযায়ী দরকার ১ হাজার ৬০০ জন নিউরোসার্জন। একসঙ্গে না পারলেও ধীরে ধীরে এ আসন সংখ্যা বাড়াতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রয়োজনে নিউরোসার্জনসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের অধীনে যেখানে ফ্যাকাল্টি আছে সেখানে আসন সংখ্যা দেড় গুণ ও দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হবে। যেখানে ফ্যাকাল্টি নেই, সেখানে আমরা কোর্স বন্ধ করে দেব। আমরা সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে কোয়ালিটি এনসিউর করতে চাই। 

ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও স্বাচিপের সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিকিৎসকদের দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেন। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্য সেক্টর ঢেলে সাজান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন ও সোসাইটি অব নিউরোসার্জনস-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে নিউরোসার্জারি বিভাগ চালু করেন অধ্যাপক রশিদ উদ্দিন স্যারকে দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আধুনিক নিউরোসার্জারির যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নিউরোসার্জারির মডেলে রূপান্তরিত করতে পারব। এতে দেশের বাইরে আর কোনো মানুষকে যেতে হবে না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিউরোস্পাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিউরোস্পাইন সোসাইটির ভারপাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. কামালউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডা. এ টি এম আসাদুল্লাহ। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে নিউরোসার্জন ও নিউরোস্পাইন সার্জনরা অংশ নেন।

 

ইত্তেফাক/ইআ