সরকারের বেধে দেওয়া দরে ধান-চাল সরবরাহ করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন পাবনার ঈশ্বরদীর কৃষক ও মিলাররা। বাজারের তুলনায় সরকারি দর কম হওয়ায় কৃষক ও মিলাররা সরকারি খাদ্য গুদামে আমন ধান ও চাল সরবরাহে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যে কারণে সরকারের আমন সংগ্রহ অভিযানের সাফল্য নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সচেতন মিলাররা মনে করেন সরকারি ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি করা হলে স্থানীয় বাজারেও চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে। অভ্যন্তরীণ বাজার হতে সরকারি গুদামে ধান-চাল সংগ্রহ না হলেও বাজারে দাম অস্বাভাবিক বাড়ার সম্ভাবনা নেই। যেটুকু ঘাটতি থাকবে সরকার তা বিদেশ থেকে আমদানি করলে দুর্ভিক্ষ হওয়ার সম্ভবনা থাকবে না।
ঈশ্বরদীতে তালিকাভুক্ত মিলারের সংখ্যা ৩২৯। ১৭টি অটোরাইস মিল বাদে ৩১২টি হাসকিং মিল রয়েছে। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাত্র ২৭টি মিল চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। পাবনা জেলার মোট ৫৭৫টি তালিকাভুক্ত মিলের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মাত্র ৪৯টি মিলার। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর রহমান জানান, গুদামে চাল সরবরাহে কৃষক ও মিলারদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। আমরা অফিস সময়ের পরেও অপেক্ষা করেছি। আরও কয়েকটি মিলার চুক্তিবদ্ধ হবে এমন আশায়।
ঈশ্বরদী খাদ্য গুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজ আল আসাদ বলেন, এবারই সবচেয়ে কম মিলার চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। সকল মিলারকে চুক্তিবদ্ধ হতে চিঠি দেওয়া হলেও লোকসানের কারণে বেশির ভাগের আগ্রহ নেই। চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীর দুটি গুদামে আমন সংগ্রহ অভিযানে ৮ হাজার ৫৮৩ টন সিদ্ধ চাল ও ২২ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিলো। এর মধ্যে ঈশ্বরদীর এলএসডি গুদামে ৪ হাজার ২৯১ টন চাল, ১০০ টন ধান এবং মুলাডুলি সিএসডি গুদামে ৪ হাজার ২৯২ টন চাল, ১০০ টন ধান বরাদ্দ দেওয়া হয়। ধানের দাম কেজি প্রতি ২৮ টাকা ও চালের দাম ৪২ টাকা ধরা হয়েছে। ১০ নভেম্বর হতে শুরু হওয়া ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
মেসার্স সম্পদ ট্রেডার্সের মঞ্জুরুল আলম জানান, সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ধান কিনে গত দুই বছর তাদের সরবরাহ করতে হয়েছে। এতে প্রচুর লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারও একই অবস্থা। কৃষকরা মাঠ থেকেই কাঁচা ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। মোকামে ধানের দাম মন প্রতি ১,২৫০-১,৩০০ টাকা। ঈশ্বরদীতে এসে পড়বে ১,৩৫০-১,৪০০ টাকা। এই দামে ধান কিনে চালের দাম ৪৬-৪৮ টাকা কেজি পড়লেও সরকার দাম দেবে ৪২ টাকা করে। হাসকিং মিলের মালিকদের চাল সরবরাহ করতে গেলে বাছাই করে দিতে হয়। এক্ষেত্রেও বাড়তি খরচ আছে।
ঈশ্বরদীর ইস্তা গ্রামের কৃষক আদম আলী জানান, এবার পাঁচ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলেন। ধানের ভালো ফলনের পাশাপাশি দামও মিলেছে। কাঁচা ধানই স্থানীয় বাজারে ১ হাজার ৩৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। সরকারি গুদামে দিলে দাম পাওয়া যেত ১ হাজার ১২০ টাকা। সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহ নেই তার।
ঈশ্বরদী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি জুলমত হায়দার বলেন, লোকসান দিয়ে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে মিলাররা আগ্রহী নয়। এজন্য সরকার লাইসেন্স বাতিল করলেও কিছু করার নেই।
