স্পোর্টস রিপোর্টার
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে একটা মাত্র ম্যাচ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপের আগে বা শুরুতে তাদের নিয়ে যে একটা উঁচু ধারণা তৈরি হয়েছিল, তার পক্ষে পারফরম করতে পারছে না দলটি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই বারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড মনে করেন, এখনো বিশ্বকাপ জেতার মতো শক্তি ব্যাটিং ও বোলিংয়ে তার দলের আছে।
আইসিসির ওয়েবসাইটে লেখা কলামে ক্লাইভ লয়েড লিখেছেন, ভারত-নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে জিততে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাবনা আছে, ‘একটা দলের সেরা চারে যাওয়ার জন্য সম্ভবত চার পয়েন্ট যথেষ্ট হবে। যেহেতু এখনো তাদের (ওয়েস্ট ইন্ডিজের) ভারত-নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে খেলা বাকি, তাই বলা যায়, হয়তো এবার হবে, নয়তো কখনোই নয়।’
লয়েড ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ বিশ্বকাপ জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অপরাজেয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর তার নেতৃত্বে ১৯৮৩ বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলেছিলো দলটি। আর এরপর থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর কখনো ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি।
সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অধিনায়ক বলছিলেন, বাজে দিন যা যাওয়ার সেটা গেছে। এটা ভুলে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এখন সামনে থাকা সব ম্যাচ জিততে হবে, ‘পরাজয় ও বাহে দিন এমন টুর্নামেন্টে আসতেই পারে। আর এখন সেসব ভুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিজেদের সামনে থাকা সব ম্যাচ জিততে হবে। তারা আসলেই যদি সেমিফাইনালে যেতে চায়, তাদের এখন আসলে গ্রুপপর্বের সব ম্যাচ জিততে হবে।’
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে হতাশার পারফরম্যান্স ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচটি হারাই দলের জন্য খুব ক্ষতির ব্যাপার হয়েছে বলে বলছিলেন ৭৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তী, ‘এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে নিজেদের খারাপ ব্যাটিং প্রদর্শনীর জন্য তারা সবচেয়ে খারাপ দিনটাকেই বেছে নিয়েছিলো। আপনি যখন ইংল্যান্ডের সেরা বোলিংকে সামলেই ফেলেছেন, এরপর কোনোভাবেই জো রুটের মতো একজন পার্ট টাইমারকে উইকেট দিয়ে আসাটা ঠিক হয়নি। সে (রুট) এমন একজন বোলার, যার কাছ থেকে আপনি সারা দিন রান আশা করতে পারেন।’
এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি ক্রিস গেইল বা আন্দ্রে রাসেলের মতো তারকারা। তবে লয়েড বলছিলেন, নিকোলাস পুরান বা শিমরন হেটমেয়ারের মতো তরুণরা তার দৃষ্টি কাড়তে পেরেছেন, ‘পুরান বিশেষ করে এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে। কিন্তু আমরা এই দুইজন তরুণকেই প্রতিদিন পারফরম করতে বলতে পারি না। অন্য ব্যাটসম্যানদের এসে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং পারফরম করতে হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দলটির অনেকেই হাত খুলে মারতে পারেন। বলকে সীমানা ছাড়া করতে অনেকেরই জুড়ি নেই। কিন্তু লয়েড বলছিলেন, এই দলটিতে উইকেট আঁকড়ে ধরে থাকা খেলোয়াড়ের অভাব আছে, ‘আমার সময়ে ল্যারি গোমেজ এই ভূমিকাটা পালন করতো। সম্ভবত তারা (নির্বাচকরা) দলে এমন কাউকে নিতে মিস করেছে যে কি না মঈন আলীর মতো অলরাউন্ড ভূমিকা পালন করতে পারে। রোস্টন চেজ এই ভূমিকাটা সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পালন করেছে। সে কিছু স্পিন বলও করতে পারে এবং উইকেট আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে।’
