দলের জয়ই বড় ফিঞ্চের কাছে

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২১:২২

স্পোর্টস রিপোর্টার

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযানে সবচেয়ে বড় সংশয় ছিল খোদ অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে নিয়ে। পুরো গ্রীষ্ম জুড়ে ফর্মের বাইরে ছিলেন এই তরুণ অধিনায়ক। অবশেষে এশিয়া সফরে এসে নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলেন ফিঞ্চ। আর বিশ্বকাপে একটার পর একটা ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়াকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩২ বলে ১৫৩ রানের যে ধ্বংসাত্মক ইনিংস খেলেছেন, তাতে ভেঙে গেছে অনেক রেকর্ড। ফিঞ্চ এখন পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে গেছেন। তবে এই সুসময়ে সেই খারাপ সময়টাকে ভোলেননি ফিঞ্চ।

গত গ্রীষ্মে সময়টা কী দুর্বিষহ গেছে, সেটা তুলে ধরছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক, ‘গত গ্রীষ্মে আমি আমার সামর্থ্যে সন্দেহ করতে শুরু করেছিলাম। অনেক অনেক সময় এমন গেছে যে, আমি আমার প্রতিটা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করছিলাম—টেকনিক্যাল ও মানসিক, দুই দিকেই। আমি সবকিছুর একটা উত্তর খুঁজতাম। আসলে আপনি যখন সবসময় উত্তর খুঁজবেন, সময়টা খুব কঠিন হয়ে উঠবে।’

তবে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মনে করেন, এই সময়টা তার জন্য খুব শিক্ষণীয় একটা সময় ছিল। তবে এই শিক্ষাটা ৩২ বছর বয়সের বদলে ২২ বছর বয়সে এলে বরং খুশি হতেন ফিঞ্চ, ‘এটা আমার জন্য শেখার দারুণ একটা সময় ছিল। তবে ব্যাপারটা এই ৩২ বছর বয়সে না হয়ে ২২ বছর বয়সে হলেই আমি খুশি হতাম। আসলে এখান থেকে আমি শিখতে পেরেছি যে, বেসিকে ফিরে যাওয়াটাই আসল ব্যাপার। সেইসঙ্গে মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি প্রথম স্লিপে বা মিড অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন; সেটাও কিন্তু আউট।’

এই সময়টা পার করে এসে মার্চ মাসে নিজেকে খুঁজে পান ফিঞ্চ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঠিক এই ১৫৩ রানের একটা ইনিংসই খেলেছিলেন। সেই ইনিংসের সমান একটা স্কোর করলেন ওভালের মেঘাচ্ছন্ন কঠিন কন্ডিশনে। তবে এই বড় স্কোরের চেয়ে ফিঞ্চের কাছে বেশি জরুরি ছিল দলের একটা জয়। দিনশেষে তিনি বলছিলেন, ‘ব্যক্তিগত এই মাইলফলকের চেয়ে অনেক বড় ব্যাপার হলো দলের জয়। তবে এটা ঠিক যে একশ পার করেই ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারাটা একটা ভালো ব্যাপার। আমার টেকনিক সম্ভবত আগের চেয়ে একটু আঁটোসাঁটো হয়েছে। কঠোর পরিশ্রমের এরকম ফল পেতে সবসময়ই ভালো লাগে।’ এই যে খারাপ সময় থেকে উঠে এসে আবার ভালো করা, ফিঞ্চ নিজের এই পরিবর্তনের জন্য বড় একটা কৃতিত্ব দিলেন সহকারী কোচ রিকি পন্টিংকে। এক সময়ের বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে অনেক সহায়তা পেয়েছেন বলে বলছিলেন, ‘রিকি তো একজন গ্রেট। শুধু আমার জন্য নয়, দলের সবার জন্যই সে অসাধারণ। সে দলের এই সব উপকারের জন্য অসাধারণ কাজ করে। সে অনেক পরিশ্রম করে। ওকে নিজের পাশে পাওয়া দারুণ একটা ব্যাপার; কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের দলে অসাধারণ কিছু নেতা আছে। যারাও আমাকে এই সময়ে সহায়তা করেছে।’

তবে ব্যক্তিগত উন্নতি নয়, ফিঞ্চ এখন ভাবতে চান দলের সেরা সাফল্যটা কীভাবে এই টুর্নামেন্ট থেকে নিয়ে যাওয়া যায়। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য যা করা দরকার, তারা সে জন্য প্রস্তুত হবেন বলে বলছিলেন।