স্পোর্টস ডেস্ক
শিরোপাপ্রত্যাশী আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার ৪৬তম আসরে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছে। ৪০ বছর পর হার দিকে প্রতিযোগিতাটি শুরু করেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে এরপরও অধিনায়ক লিওনেল মেসি মোটেও হতোদ্যম হচ্ছেন না। পরের ম্যাচেই ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কলম্বিয়ার কাছে শেষ ১২ বছরে কোনো ম্যাচ হারেনি আর্জেন্টিনা। গেল বছর বিশ্বকাপের পর প্রস্তুতি ম্যাচে মেসিবিহীন দলটিও কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল। এবার তো অধিনায়ক মেসি আছেনই! জয় দিয়ে কোপা শুরু করার আশাটা মোটেও অলীক কিছু ছিল না আর্জেন্টিনার।
রবিবার সালভাদরের ফন্তে নোভা অ্যারেনায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। বেশ কিছু সুযোগ নষ্টও করে তারা। যে মিছিলে শামিল হয়েছিলেন অধিনায়ক মেসিও। যার চড়া মাসুল দিতে হয় দলটিকে। ৭১ মিনিটে রজার মার্টিনেজের দারুণ গোলে ম্যাচে ফেরে কলম্বিয়া। ৮৬ মিনিটে কলম্বিয়ার বদলি খেলোয়াড় দুভান জাপাতা গোল করলে ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো কোপা আমেরিকায় নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে হারের বিস্বাদ নেয় আলবিসেলেস্তেরা।
শেষ দুই আসরের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা এবার কিছুটা দুর্বল শক্তির দল নিয়ে ব্রাজিলে এলেও কলম্বিয়ার কাছে এমন হার নিশ্চিতভাবেই কামনা করেনি। অধিনায়ক মেসির ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় যা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। মেসি বলেন, ‘আমরা এভাবে শুরু করতে চাইনি মোটেও। এ এক তিক্ত অনুভূতি। তবে এটা আমরা এখানেই রেখে যাচ্ছি। এখন আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
মেসি জানান প্রথমার্ধে তার দল তেমন সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরে এসেছিল তার দল। তবে সুযোগ হারানোর ফলেই হারের কবলে পড়তে হয়েছে বলে মত পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর। তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা কিছুটা পিছিয়ে ছিলাম এবং রক্ষণ আগলে রেখে খেলছিলাম কিন্তু এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আমরা সত্যিই উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা সুযোগ তৈরি করেছিলাম কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারিনি।’
কলম্বিয়ার কাছে হারলেও দ্বিতীয়ার্ধে তৈরি করা সুযোগগুলোকে ম্যাচের ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। তার ভাষায়, ‘এখান থেকে ইতিবাচক ব্যাপারগুলোকে গ্রহণ করে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে আমাদের। আমরা অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করেছিলাম।’
তবে এখন কলম্বিয়া ম্যাচের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে সামনে তাকাতে চাইছেন মেসি, ‘হার সবসময়ই হজম করা কঠিন। আমরা বেশির ভাগ সময়ই খুব বাজেভাবে এটা গ্রহণ করে থাকি। এখন আমাদের প্যারাগুয়ের ব্যাপারে ভাবতে হবে।’
লিওনেল স্ক্যালোনির শিষ্যরা আগামী ২০ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে।
