ঐতিহাসিক যশোর টাউন হল ময়দানে হানাদারমুক্ত স্বদেশের মাটিতে প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। ঐ জনসভায় দেশের একমাত্র ফটোসাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ রায়হান (৯১) তার ইয়াসিকা ৬৩৫ মডেলের ক্যামেরায় সেদিনের ঐতিহাসিক জনসভার ছবি তুলেছিলেন।
রোববার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় যশোরের ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানে সেই ‘স্বাধীনতা উন্মুক্ত মঞ্চে’ সংবর্ধিত হলেন তিনি।
সেইদিনের স্মৃতিচারণ করে আবদুল হামিদ রায়হান বলেন, মুজিবনগর সরকারের হেডকোয়ার্টার্স ছিলো কলকাতার থিয়েটার রোডে। ১১ ডিসেম্বর যশোর টাউন হল মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জহির রায়হান সাহেবদের আসার খবরে দুপুর থেকে মাঠে লোকজন আসতে শুরু করে। বিকাল ৪টার দিকে তারা জনসভাস্থলে পৌঁছান। মাঠ ছিলো ছোট। জনসভায় সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটে। হানাদারমুক্ত বাংলার প্রথম জনসভায় প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ জনতার উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আর ধ্বংস নয়, যুদ্ধ নয়। এই মুহূর্তে কাজ হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা।’ সেদিন তিনি সর্বস্তরের মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানিয়েছিলেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের প্রথম কোনো সভার স্থিরচিত্র যিনি ধারণ করেছিলেন; তার মুখেই ঐতিহাসিক দিনের বিবরণ শুনে উপস্থিত অনেকেই আপ্লুত হন। এতদিন পর যশোরবাসী তাকে সংবর্ধনা দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদেরও কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ জানান তিনি।
আবদুল হামিদ রায়হান বলেন, বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর একটি স্মরণীয় দিন। এইদিন হানাদার বাহিনীর কবলমুক্ত যশোরে স্বাধীন বাংলার প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই জনসভায় মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সবাইকে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে ভাষণ দিলেন। মানুষ সেগুলো শুনলো। ঐ জনসভায় বিদেশি কয়েকজন সাংবাদিক এবং বাংলাদেশের একমাত্র আমিই উপস্থিত ছিলাম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর যশোর জেলা পরিষদ স্বাধীনতা উন্মুক্ত মঞ্চটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনরায় নির্মাণ করেছে।
এদিন বিকালে ওই মঞ্চের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সংবর্ধিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, ডেপুটি প্রধান রবিউল আলম, যশোর ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন গণপরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদ সদস্য আবুল ইসলামের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির ও রওশন আরা রাশু।

