যশোরে ব্যবসায়ী আনিছুর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ২০:২৭

যশোরের অভয়নগরে সার, সিমেন্ট, কয়লা ও খাদ্যশস্য আমদানিকারক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) রাতে যশোরের একটি বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার মাহমুদ হোসেন উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ জোনায়েদ হোসেনের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। 

পুলিশ জানায়, আটক শাহ মাহমুদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সোমবার দুপুরে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. মিরাজুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ হোসেনকে যশোর আর এন রোডের একটি বাসা থেকে অভয়নগর থানা পুলিশ, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের যৌথ অভিযানে রোববার রাতে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এর আগে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চট্টগ্রাম থেকে মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, গত ৬ মে সন্ধ্যায় আনিছুর রহমানকে (বড় আনিছ) শাহ মাহমুদ ও তার সহযোগীরা কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের ৪৬ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, আনিছুরের মালিকানাধীন ‘আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেটের’ সামনে বসে থাকা আনিছুর রহমানের সামনে গিয়ে শাহ  মাহমুদ হোসেন চেয়ারে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে তাকে গালিগালাজ করে। এরপর তার কোমর থেকে চাইনিজ কুড়াল বের করে প্রকাশ্যে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে প্রথমে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে তাকে রাত আড়াইটার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বাসা ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে একটি সূত্রে জানা যায়।

পরদিন নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ জোনায়েদের ছেলে শাহ মাহমুদ হোসেন ও একই গ্রামের নিছার আলীর ছেলে নাসির উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর নওয়াপাড়ার সার সিমেন্ট খাদ্য শস্য ব্যবসায়ী সমিতি ও ১১ টি শ্রমজীবী সংগঠন ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নওয়াপাড়ায় হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

ইত্তেফাক/এপি