নাব্য হারিয়ে পাল্টে যাচ্ছে খাসিয়ামারার গতিপথ

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৩৯

সীমান্তের ওপার থেকে পাহাড়ি ঢলের সাথে নেমে আসা বালুতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে সুনামগঞ্জ সীমান্তের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ও সুরমা ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবহমান খাসিয়ামারা নদী। এতে নাব্য হারিয়ে পাল্টে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। নদীতে পানিস্বল্পতায় গত কয়েক বছর ধরে ফসল ফলাতে না পারায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকা পরিচালনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের ফসলি জমি চাষাবাদের সুবিধার্থে পানি সংরক্ষণ করতে সুরমা ইউনিয়নের পশ্চিম টিলাগাঁও অংশে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েক বছর আগে ‘রাবার ড্যাম’ সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে এলজিইডি। কিন্তু নদীতে চর পড়ে ‘রাবার ড্যাম’ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা। গত কয়েক বছর ধরে পানির অভাবে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে হেক্টরের পর হেক্টর ফসলি জমি। এতে কৃষকরা ফসল উত্পাদন না করতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নদীতে নাব্যতা না থাকায় অল্প পানিতেই অসময়ে বন্যার সৃষ্টি হয়ে প্লাবিত হয় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। চরের কারণে নাব্যতা হারিয়ে ইতোমধ্যে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ অনেকটাই পাল্টে গেছে। এতে রাবার ড্যাম-লক্ষীপুর সড়কটি হুমকির মুখে রয়েছে। নদী ভাঙনের হুমকিতে আছে—পশ্চিম বাংলাবাজার, টিলাগাঁও, মহব্বতপুর, আলীপুর বাজারসহ আশপাশের প্রায় ১০-১৫টি গ্রামের বসতভিটা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ ইত্তেফাককে জানান, তারা ওই রাবার ড্যাম সংস্কার ও খাসিয়ামারা নদীর অংশ খনন করতে চান। এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠিয়েছেন। এ জন্য দেড় কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ও টিলাগাঁওয়ের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নদীতে চর পরে ভরাট হওয়ায় রাবার ড্যাম সেচ প্রকল্পের মাধ্যমেও পানি ধারণ করে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পানি না থাকায় এবারও বেশিরভাগ জমি অনাবাদি থেকে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে বৃহত্তর লক্ষীপুর ইউনিয়নের কৃষি ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। তাই অবিলম্বে নদী খননের উদ্যোগ নিতে হবে।

জাতীয় কৃষক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কৃষক নেতা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘খাসিয়ামারা নদীর খনন না হওয়ায় পানির অভাবে উপজেলার লক্ষাধিক কৃষক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আমরা একাধিক বার কৃষকদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করে কৃষির সুবিধার্থে খাসিয়ামারা নদী খননের দাবি জানিয়েছি।’ কৃষকদের এই প্রাণের দাবি মেনে নিয়ে সরকারিভাবে দ্রুত নদী খননের উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি। বৃহত্তর লক্ষীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার বলেন, ‘নদী ভরাট হওয়ায় শুধু কৃষকরাই নয়, আশপাশের এলাকার সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, বর্তমানে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মামুনুর রশীদ বলেন, ‘উজানে বালুরচর পড়ে খাসিয়ামারা নদী নাব্যতা হারাতে বসেছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গ্রাম, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।’ তিনি বলেন, ‘রাবার ড্যামের উজান থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন করা গেলে নদী আবার আগের মতো প্রাণ ফিরে পাবে।’