রাজশাহীতে আমের লাভের টাকা যাচ্ছে বেপারিদের পকেটে

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৪২

হতাশা কাটছে না চাষিদের

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

ধানের পর এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ফসল আম। তাই এর দাম যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে, এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ চান কৃষকরা। রাজশাহীর আমের খ্যাতি দেশজুড়েই। এখন ভরা মওসুমে আম কেনাবেচায় ব্যস্ত কৃষকরা। তবে আশা ছিল, রমজানের পর দাম চাঙা হবে আমের। কিন্তু যে দাম পাচ্ছেন, তাতে সন্তুষ্ট নন বাগান মালিকরা। বাইরে থেকে আসা বেপারিরা সস্তায় আম কিনে নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন বেশ চড়া দামেই। ফলে ন্যায্য দাম নিয়ে হতাশা কাটছে না প্রকৃত চাষিদের।

রাজশাহীতে আমের সবচে’ বড় পাইকারি হাট পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। নিজের বাগানের আম বেশ যত্ন করেই এ হাটে তুলেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ভ্যানের ওপর ঝুড়িতে আম সাজিয়ে বসে আছেন সকাল থেকে। কিন্তু বিক্রি নেই। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে আম চাষ করি। কিন্তু আমের পেছনে যে শ্রম ও খরচ হয় তা বিক্রি করে উঠছে না। ফলে আম নিয়ে আমরা বিপদে আছি। বেপারি নেই। আমের ন্যায্য দাম যাতে কৃষকরা পায় এজন্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাই।’ তবে এ হাটে অন্যরা যারা আম বিক্রি করছেন, তাদের মুখেও তেমন হাসি নেই। বাজারে আমের যে দাম পাচ্ছেন, তাতে খুশি নন তারা।

বেলপুকুর এলাকার জিল্লুর রহমান জানান, এরই মধ্যে গোপালভোগ আম শেষ। খিরসাপাতও শেষের পথে। তবে শেষমুহূর্তে খিরসা বিক্রি হচ্ছে ২৬০০-২৭০০ টাকা মণ দরে। আর ল্যাংড়া আম কেবল বাজারে এসেছে। দাম ১৭০০-১৮০০ টাকা মণ। কিন্তু এই দামে আম বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না।

ভোলা থেকে আসা বেপারি মুকুল জানান, তারা বানেশ্বর হাটে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে আম কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তার দাবি, পরিবহন ও শ্রমিক খরচের কারণে এই বাড়তি দাম নেন তারা।

বানেশ্বর হাটে আসা পোল্লাপুকুর এলাকার এক আমচাষি জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ভোলাসহ বিভিন্ন জেলার বড় বড় বেপারিরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারা এ হাটে এসে আম  কেনে। তাদের বেঁধে দেওয়া দামেই বিক্রি করতে একরকম বাধ্য হচ্ছি। বেপারিরা কম দামে রাজশাহী থেকে আম কিনে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে দ্বিগুণ দামে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীমউদ্দীন বলেন, ভালোমানের আমের দাম আছে। যে জাতের আম সেগুলোর দাম চড়া। তবে গুটি জাতের আমের দাম কম। এজন্য কৃষকদের উন্নত জাতের আম চাষের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।