শনিবার হইতে আবারো ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ ঢাকা শহরের ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করিয়াছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ ২০১৯’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার জানাইয়াছেন, এই কার্যক্রম আগামী ২১ জন পর্যন্ত, অর্থাত্ এক সপ্তাহব্যাপী চলিবে। এই কার্যক্রম শুরু হইবার পর হইতে ডিএমপি প্রায় ৬৩ লক্ষ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিয়াছে। মূলত ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ শহরে বসবাসরত নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করিয়া সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করিবার এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংগ্রহের পদ্ধতি হিসাবে পুলিশ মূলত ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার তথ্য সংগ্রহ করিতে পুলিশ জুরিসডিকশন অনুযায়ী ফরম বিতরণ করিয়া থাকে এবং ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালারা তাহা পূরণ করিবার পর পুলিশ সংগ্রহ করিয়া আসিতেছে। সেই তথ্য সফটওয়ারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সফটওয়্যারে প্রত্যেক নাগরিকের একটি ইউনিক ইনডেক্স নাম্বার থাকে। জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার অথবা মোবাইল নাম্বার দিয়া সার্চ দিলেই নাগরিক সম্পর্কিত তথ্য উঠিয়া আসে। উল্লেখ্য, ঢাকার ৫০টি থানায় এই কার্যক্রম চালু রহিয়াছে।
পুলিশের এই উদ্যোগ এখন পর্যন্ত আংশিক সফল হইয়াছে। পুরোপুরি সফল হইতে পারিত যদি পুলিশ এবং নাগরিকদের মধ্যে আরও কিছু সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা যাইত। সেই কথা খোদ পুলিশ কমিশনার উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন, বর্তমানে পুলিশ এবং নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ করা যাইতেছে। তিনি বলিয়াছেন, আমরা লক্ষ করিতেছি, অনেক নাগরিক তথ্য দিতে গড়িমসি করিতেছেন। নাগরিক তথ্য শতভাগ নিশ্চিত করিতেই আমরা আবারো তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ শুরু করিয়াছি। নাগরিকদের এই গড়িমসি প্রকৃত অর্থেই হতাশাজনক। একটি রাষ্ট্রে নাগরিকদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিতে হয়। পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা একজন নাগরিকের একান্ত কর্তব্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় নাগরিক হইল সেই ব্যক্তি, যে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে, রাষ্ট্রপ্রদত্ত সকল অধিকার ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে। বিশেষ করিয়া একটি রাষ্ট্রে যখন হলি আর্টিজানের মতো জঙ্গি হামলা সংঘটিত হয় এবং আরো হইবার ঝুঁকি থাকে, তখন নাগরিকদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়া যায়; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নাগরিকদের একটি বড় অংশই সেই কথা ভুলিয়া থাকেন। পক্ষান্তরে খোদ পুলিশ কমিশনার যখন স্বীকার করেন যে, পুলিশের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব রহিয়াছে, তখন খোদ পুলিশ কর্মকর্তাদেরই তত্পর হইয়া উঠিবার প্রয়োজন রহিয়াছে। সেই সঙ্গে নাগরিকদের তথ্য যেন গোপন থাকে তাহাও পুলিশ প্রশাসনকে নিশ্চিত করিতে হইবে।
