অভিজ্ঞ দেশমের সঙ্গে তরুণ স্কালোনির লড়াই

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৬

ফাইনাল জিততে লিওনেল মেসি এবং কিলিয়েন এমবাপ্পে লুসাইল স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন। তারা লড়বেন মাঠের বাইরে। মাথা দিয়ে প্রতিপক্ষের কৌশলকে নস্যাত্ করার পরিকল্পনা দেবেন শিষ্যদের। একজন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম, অপরজন লিওনেল স্কালোনি। মাঠের রণকৌশল ঠিক করে দেন কোচরাই। তাই আর্জেন্টিনা-ফ্রান্সের শিরোপাভাগ্য দেশম-স্কালোনির ওপরও খানিকটা নির্ভর করছে। অভিজ্ঞ দেশমের তুলনায় অনেক পিছিয়ে স্কালোনি। তবে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে সেটি বোঝার উপায় নেই।

দেশমের খেলোয়াড়ি এবং কোচিং ক্যারিয়ার দারুণ সমৃদ্ধ। সেখানে স্কালোনির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ততটা উল্লেখ করার মতো নয়। রাইট ব্যাক বা মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতেন আর্জেন্টাইন কোচ। জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি কাটিয়েছেন স্প্যানিশ ক্লাব দেপোর্তিভো লা করুনায়। অন্যদিকে, ফ্রান্সের হয়ে খেলার পাশাপাশি দেশম খেলেছেন ফ্রান্সের তিনটি ক্লাব, ইতালির জুভেন্টাস, ইংল্যান্ডের চেলসি এবং স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে মাঝ মাঠ সামলেছেন।

সবদিক থেকেই স্কালোনির চেয়ে দেশমের অভিজ্ঞতার পাল্লাই ভারী। ৫৪ বছরের দেশম ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন ১৯৯৮ সালে। তার অধিনায়কত্বেই ফ্রান্স ২০০০ সালে জিতেছিল  ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। খেলোয়াড়ি জীবনে যেমন সফল ছিলেন একইভাবে কোচ হিসেবেও তিনি সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। লিগ ওয়ানের দল মোনাকোকে দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন দেশম। দলটিকে ২০০৩ সালে ‘কুপ দ্য লা লিগ’ জেতাতে সাহায্য করেন।

শুধু তাই নয়, ২০০৪ সালে মোনাকোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে নিয়ে যান। ২০০৬-২০০৭ এই এক বছরে সিরি-আ’তে জুভেন্টাসকে অনেক ম্যাচ জেতাতে ভূমিকা রাখেন। পরে মার্সেইয়ে যোগ দিয়ে ক্লাবটিকে ২০০৯-১০ মৌসুমে লিগ ওয়ানে শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেন। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেন ফ্রান্স জাতীয় দলের। তার অধীনেই ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০১৬ সালের ইউরোতে ফাইনাল খেলে ফ্রান্স।

খেলোয়াড়ি জীবনের পর কোচিং ক্যারিয়ারে দেশমের বড় সাফল্য ধরা দেয় ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। তরুণ এক দল নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ফাইনাল জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। ব্রাজিলের মারিও জাগালো এবং জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর তিনি তৃতীয় যিনি খেলোয়াড় ও কোচের ভূমিকায় দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, দেশম দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি অধিনায়ক ও কোচের ভূমিকায় দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। প্রথমজন হলেন জার্মানির বেকেনবাওয়ার। দেশম কাতার বিশ্বকাপেও তার দলকে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। ফের ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হলে অনন্য উচ্চতায় উঠে যাবেন দেশম। 

অন্যদিকে, স্কালোনি দেশমের তুলনায় অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকলেও উদ্যমে কোনো অংশেই কমতি নেই। ২০১৬ সালে সেভিয়ার কোচ হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে যোগ দেন। ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সাম্পওলিকে। স্কালোনিকে এখানেও দেওয়া সহকারীর দায়িত্ব। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপর্যয়ের পর দায়িত্ব দেওয়া হয় স্কালোনিকে।

২৮ বছর পর আর্জেন্টিনাকে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জেতাতে সাহায্য করেন স্কালোনি। সে বছরই ফিফার বর্ষসেরা কোচের মনোনয়ন পান স্কালোনি। যদিও তিনি এই পুরস্কার জিততে পারেননি। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে লা ফিনালিমিসায় ইতালিকে ৩-০ গোলে হারায় আলবিসেলেস্তারা।  কাতার বিশ্বকাপের শুরুতেই সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। তোপের মুখে পড়েন স্কালোনি। সব চাপ সামলে সেই আর্জেন্টিনাই এখন ফাইনালে। আর একটি ম্যাচ জিতলেই ৩৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচবে আর্জেন্টিনার। ফুটবলার হিসেবে স্কালোনি কতটা সফল সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে, কিন্তু কোচ হিসেবে সাফল্যের পথেই রয়েছেন তিনি। আর একটি ম্যাচ জিততে পারলেই কোচ হিসেবে নিশ্চিতভাবেই ঢুকে যাবেন এলিট প্যানেলে!

 

ইত্তেফাক/ইআ