হংকংয়ে আবারও ব্যাপক বিক্ষোভ, ক্ষমা চাইলেন প্রধান নির্বাহী লাম

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৫৪

হংকং কর্তৃপক্ষ বহিঃসমর্পণ বিল পাসের পরিকল্পনা স্থগিত করলেও গণবিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার হংকংয়ের রাস্তায় লাখ লাখ লোক বিক্ষোভ করে। এসময় তারা হংকংয়ের চীনপন্থি প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের পদত্যাগ দাবি করে। এদিকে বড় বিক্ষোভের মুখে গতকাল জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান নির্বাহী লাম।

বিচারের জন্য বাসিন্দাদের চীনের মূল ভূূ-খণ্ডে পাঠানোর সুযোগ রেখে একটি বহিঃসমর্পণ বিল পাসের উদ্যোগ নিয়েছিল হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কাউকে পাঠানো নিরাপদ মনে করছে না হংকংয়ের বাসিন্দারা। তারা মনে করছেন, বিলটি পাস হলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়াবে। এ কারণে বিলটি বাতিলের দাবিতে গত সপ্তাহে হংকংয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা হয়। বিক্ষোভের মুখে শনিবার হংকংয়ের শাসক ক্যারি লাম প্রস্তাবিত বিলটির কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। ধারণা করা হয়েছিল, সরকারের এ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি শান্ত হবে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা আবারও রাজপথ দখল করেছে।

গতকাল কালো পোশাক     পরে অনেকে সাদা ফুল হাতে বিক্ষোভে অংশ নেয়। অনেকে স্লোগান দিতে থাকে যে, গুলি করো না, আমরা হংকংবাসী। বিক্ষোভকারীরা হংকংয়ের শাসক লামের পদত্যাগ, বিলের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বাতিল ও বল প্রয়োগের জন্য পুলিশকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। গণতন্ত্রপন্থি আইন প্রণেতা ক্লদিয়া মো বলেন, এই বিল সম্পূর্ণরূপে বাতিলে লাম অস্বীকৃতি জানালে আমরা সরবো না। তিনিও থাকবেন, আমরাও থাকবো। বিক্ষোভকারীরা হংকংয়ের প্রধান সড়ক, রেল স্টেশনে জড়ো হয়। তাদের দাবি ১০ লাখ লোক অংশ নিয়েছে। হংকংয়ের বাইরে তাইওয়ানেও বিক্ষোভ হয়েছে।

এদিকে শনিবার পদত্যাগের প্রশ্ন এড়িয়ে যান লাম। চীনা সরকারও লামের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা ও সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছে। তারপরও বিক্ষোভের মুখে গতকাল ক্ষমা চেয়েছেন লাম। গতকাল তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন, সরকারের কিছু ঘাটতি ও দুর্বলতার কারণে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যা অনেক নাগরিককে হতাশ করেছে। তিনি বিনয়ী ও নম্র মনোভাবের সঙ্গে সব ধরনের সমালোচনা মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সমালোচকরা বলছেন, এই প্রত্যর্পণ আইন হংকংয়ের আইনের শাসনের এবং এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্রের সুনামের জন্য হুমকির। হংকংয়ের অনেক ধনী ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে তাদের সম্পদ বিদেশে সরাতে শুরু করেছে। তবে বেইজিংপন্থি রাজনীতিকদের মতে, বহিঃসমর্পণের সুযোগ না থাকায় হংকং চীনের অন্য অংশের অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বেইজিং যখন কঠিন সময় পার করছে তখনই হংকংয়ে এই বিক্ষোভ হচ্ছে। বর্তমানে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য চীনের কাছে হংকংকে হস্তান্তর করলেও, বেশ কিছু ক্ষেত্রে শহরটির স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেয়। এ কারণে চীনকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থাপনার’ নীতিতে চলতে হচ্ছে। এতে চীনের অধীনে থাকলেও নিজস্ব শাসনব্যবস্থা থাকবে হংকংয়ের।