রাজশাহীতে ভেঙে পড়েছে ই-ট্রাফিকিং প্রক্রিয়া

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৫৭

অব্যবস্থাপনায় রাজশাহীতে মুখ থুবড়ে পড়েছে ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেস। প্রায় আট মাস আগে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এ ট্রাফিক ব্যবস্থার উদ্বোধন করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। তখন বলা হয়েছিল, ই-ট্রাফিকিং প্রসেসে ভোগান্তি কমবে গাড়ির মালিক ও চালকদের। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই।

জানা যায়, এখনো আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের সব সার্জেন্টের হাতে পৌঁছেনি ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেসের যন্ত্র। ট্রাফিক আইনের মামলা হয় আগের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে। উদ্বোধনের পর কয়েকটি যন্ত্রে দেখা দিয়েছে ত্রুটি। যে কটি যন্ত্র চালু সেগুলোতেই ই-ট্রাফিকিং সম্ভব। কিন্তু এ পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এই ই-ট্রাফিকিং চালু হয়নি। অথচ রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে অটোরিকশা এবং ট্রাফিক আইনও সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন করে তিন চাকার এই পরিবহন।

সূত্র জানায়, ট্রাফিক বিভাগের মামলার জরিমানা আধুনিক পদ্ধতিতে সহজে আদায় করতে গত বছরের ৯ মে আরএমপির সঙ্গে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ও গ্রামীণফোনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আরএমপির তত্কালীন পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। তার বদলির পর ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আরএমপির তত্কালীন কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের আট মাসেও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থায় কোনো গতি আসেনি।

অথচ ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেস উদ্বোধনের সময় বলা হয়, জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে চালক বা গাড়ির মালিকদের আর হয়রানি হতে হবে না। তাদের নির্দিষ্ট সময়ে ট্রাফিক অফিসে গিয়েও জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হবে না। ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাথে সাথেই তারা জরিমানা পরিশোধ করে রশিদ নিতে পারবেন। এতে ট্রাফিক সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোগান্তি কমবে চালক ও মালিকদের। কিন্তু এখনো ট্রাফিক বিভাগের বেশিরভাগ মামলা হয় আগের মতো সনাতন পদ্ধতিতেই। জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে যেতে হয় ট্রাফিক অফিসে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সেখান থেকে সংগ্রহ করতে হয় মামলার কাগজপত্র। ।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আরএমপির একাধিক সার্জেন্ট বলেন, ইসিবি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, মহানগর এলাকার ২৫টি স্থানে ব্যাংকটির ইউ ক্যাশ এজেন্ট পয়েন্ট স্থাপন করার কথা। কিন্তু তারা যেসব এলাকায় অভিযান চালান তার বেশিরভাগ এলাকাতেই এখনো পয়েন্ট স্থাপন করা হয়নি। এছাড়া শুরুতে ১৩টি মেশিন দিয়ে ই-ট্রাফিকিং কার্যক্রম শুরু হয়। ইতোমধ্যে কয়েকটি মেশিনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নতুন করে সার্জেন্টদের আর মেশিন দেওয়া হয়নি। ফলে কার্যক্রম চলছে এখনো পুরনো পদ্ধতিতেই।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে চাননি আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার সালমা সুলতানা আলম। তবে ট্রাফিক পরিদর্শক মোফাক্কারুল আলম বলেন, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থায় গতি আনতে আরো কয়েকটি ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেস যন্ত্র আনা হয়েছে। সেগুলো দ্রুতই সার্জেন্টদের হাতে দেওয়া হবে। তখন কার্যক্রমে গতি আসবে বলেও মনে করেন তিনি।