নয়াপল্টনে পুলিশি অভিযানে অর্ধকোটি টাকার বেশি ক্ষতির দাবি বিএনপির 

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:৩৭

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানে নগদ অর্থসহ অর্ধকোটি টাকার বেশি সম্পদ ক্ষতি ও লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।  রোববার (১৮ ডিসেম্বর) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই দাবি করেন। ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাসসহ গ্রেফতারর হওয়া নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলাসমূহ প্রত্যাহারের দাবি জানান মোশাররফ হোসেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ৭ ডিসেম্বরের ঘটনায় নগদ অর্থসহ ক্ষতি ও লুট হওয়া সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা। কোনো অফিস বা গৃহ তল্লাশির সময় মালিকপক্ষ এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে রাখার সাধারণ আইন অগ্রাহ্য করে পুলিশ যা করেছে তা, হানাদার বাহিনীর আচরণকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘অফিস থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক, নথিপত্র, ব্যাংকের কাগজপত্র, নগদ অর্থ লুট করা প্রকৃতপক্ষে একটি ডাকাতির ঘটনা। ৭ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি হামলার পর পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর ও মালামাল লুটে অংশ নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

পুলিশি অভিযানে নগদ অর্থসহ অর্ধকোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির কোনো মামলা বিএনপির পক্ষ থেকে করা হবে কি না—এমন এক প্রশ্নে মোশাররফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে বিএনপি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

পুলিশের করা মামলার এজাহারেই বলা হয়েছে, পুলিশ ৭ ডিসেম্বর বিকেলে মোট ১৭৯টি টিয়ারগ্যাস ও শটগানের ৪৬০টি গুলি ছুড়েছে এবং ছয়টি সাউন্ড বোমা নিক্ষেপ করেছে। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এর বিপরীতে তাদের (পুলিশ) ওপর আক্রমণকারী বিএনপির নেতা-কর্মীদের ব্যবহৃত অস্ত্র হিসেবে আলামত দেখানো হয়েছে ফুটপাত ও রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া পাঁচ বস্তা ইটের টুকরা (যা শহরের যেকোনো সড়ক থেকে যেকোনো সময় সংগ্রহ করা যায়), ৮০টি বাঁশের লাঠি (যা শহরের বহু স্থানে প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য রাখা হয়) ও লাল টেপে মোড়ানো কথিত ককটেলের ভগ্নাংশ (যা ব্যবহৃত টিয়ার গ্যাসের শেল কিংবা পথের আবর্জনারও অংশ হতে পারে) বলেও উল্লেখ করেন খন্দকার মোশাররফ।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এনএ