মিরসরাইয়ে সাবেক এক সেনা সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর রবিবার দুপুরে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংলগ্ন মঘাদিয়া ইউনিয়নের বদিউল্লাপাড়া এলাকার একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহতের নাম মো. নান্নু মিয়া (৫৫)। ল্যান্স কার্পোরাল মো. নান্নু মিয়া মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে করিম গ্রুপের আওতাধীন ওয়াহিদ কন্সস্ট্রাকশনের নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন। তিনি ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার পশ্চিম দারাখোলা গ্রামের মো. আবদুল হকের ছেলে।
ওয়াহিদ কন্সস্ট্রাকশনে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, মো. নান্নু মিয়াকে গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কোম্পানির মালামাল লুট করতে না পেরে দুর্বৃত্তরা তাকে মেরে ফেলে দেয় বলে কর্মরত শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। অর্থনৈতিক অঞ্চলে ওয়াহিদ কন্সস্ট্রাকশনে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তারা গত দুদিন ধরে নান্নু মিয়াকে খোঁজাখুঁজি করে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রবিবার সকালে অর্থনৈতিক অঞ্চল সংলগ্ন মঘাদিয়া ইউনিয়নের বদিউল্লাপাড়া এলাকার একটি খালে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। পরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারকারী ইব্রাহীম নামে একজন জানান, নিহতের শরীর গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার নাক, কান কেটে ফেলা হয়, চোখ উপড়ে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানো দাগ রয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এবং কারা এর সাথে জড়িত তাদের বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
