সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২২:০১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেনাবাহিনীকে সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এজন্য এর নেতৃত্ব যোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে ন্যস্ত করতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের সেনাসদর কনফারেন্স হলে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন নির্বাচনী পর্ষদ পদোন্নতির জন্য এমন সব সেনা কর্মকর্তাদের সুপারিশ করবে যাদের দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য রয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। সেই আলোকেই বর্তমান সরকার একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য আর্মড ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা্লের পর ১৯টি অভ্যুত্থানের ঘটনা তুলে ধরেন। ১৯৮১ সালে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন দেশে ফিরলাম তখন বলেছিলাম এই আত্মঘাতী অবস্থা আমরা চাই না। দেশের সর্বক্ষেত্রে শান্তি চাই। মনোবল ছিল দেশে ফিরেছিলাম। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই আমার মূল শক্তি।’

তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের বিভিন্নখাতে উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলে থাকার সময়ই তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি যখন বাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে তার সুফল পায় সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, সেনা সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে সরকার সম্প্রসারণ ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া কর্মকা্ল তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে ৫ দিনব্যাপী আয়োজিত এ পর্ষদের কার্যক্রম গতকাল শুরু হয়েছে। এ পর্ষদের মাধ্যমে কর্নেল হতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লে. কর্নেল হতে কর্নেল পদবিতে পদোন্নতির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।