অবশেষে ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২২:০১

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত) অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল; কিন্তু তিনি তা এড়িয়ে ২০ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল যে করেই হোক আদালত থেকে জামিন নেওয়া। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি দাড়ি-গোঁফ বড় করে চেহারা পাল্টানোর চেষ্টাও করেন। গতকাল রবিবার কৌশলে হাইকোর্টে এক আইনজীবীর চেম্বারে গিয়েছিলেন। তবে আগে থেকেই মোয়াজ্জেম হোসেনকে নজরদারিতে রেখেছিল পুলিশ। হাইকোর্ট চত্বর থেকে বের হবার পর শাহবাগ থানা পুলিশ রাজধানীর কদমফুল ফোয়ারার মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করে। তাকে রাখা    হয়েছে শাহবাগ থানায়। আজ সোমবার তাকে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

এদিকে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার দায়িত্ব ফেনী জেলা পুলিশের। গ্রেফতারের পরপরই ফেনী পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ফেনী পুলিশের টিম ঢাকায় পৌঁছলে তাদের কাছে মোয়াজ্জেমকে হস্তান্তর করা হবে। আর ফেনী পুলিশ সোমবার তাকে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর মোয়াজ্জেম হোসেন আত্মগোপনে থেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে হন্য হয়ে খুঁজছিল। গতকালও মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে এক আইনজীবীর চেম্বারে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালায়। আগেভাগে তা টের পেয়ে সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে আসেন মোয়াজ্জেম হোসেন। বেলা তিনটার দিকে কদম ফোয়ারার কাছে দাঁড়িয়ে সম্ভবত গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন প্যান্ট শার্ট পরিহিত মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, আত্মগোপনে থাকার সময় কেউ যাতে তাকে চিনতে না পারে সেজন্য তিনি দাড়ি-গোঁফ রাখেন (আগে ক্লিন সেভ করতেন)। দাড়ি-গোঁফ থাকায় পুলিশ প্রথমে তাকে চিনতে পারেনি। কয়েকবার চেষ্টার পর তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। আটকের পরপরই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শাহবাগ থানায়।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার কাছে শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। ঐ সময় নুসরাতের জবানবন্দি ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গত ৮ মে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। গত ১০ এপ্রিল তাকে সোনাগাজী থেকে প্রত্যাহারের পর রংপুর রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। সেখানেও গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়। তবে মোয়াজ্জেম হোসেন সেখানে যোগ না দেওয়ায় সেখান থেকেও তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।