রোববার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

একাধিক বার আবেদন

বগুড়ায় দুই সরকারি স্কুলে ভর্তি লটারি থেকে বাদ ২৩৫ জন

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩১

বগুড়ার দুটি সরকারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে ৪১১ জন শিক্ষার্থীর নাম উঠলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৫৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়নি। একাধিক বার আবেদন জমা দেওয়া এবং বয়স বেশি বা কম হওয়ার জন্য এসব শিক্ষার্থী বাদ পড়েছে। এদের মধ্যে এক দম্পতি তাদের মেয়ের নাম এবং জন্ম সনদের নম্বর বদলে ১৫৬ বার অনলাইনে আবেদন জমা দিয়েছিলেন। লটারিতে তিন বার নাম ওঠার পরও শেষ পর্যন্ত সেই মেয়ে ভর্তির সুযোগ পায়নি। এদিকে বগুড়া জিলা স্কুলে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ছাত্রদের নাম বাদ পড়ার জেরে বুধবার বেলা ১১টায় শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে। 

বগুড়ার শহরের দুটি সরকারি স্কুল হলো—বগুড়া জিলা স্কুল এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। সারা দেশে ১২ ডিসেম্বর সরকারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে লটারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়। লটারিতে বগুড়া জিলা স্কুলে ২০৫ জন ও বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০৬ জন ভর্তির সুযোগ পায়। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, একাধিক বার যারা আবেদন করেছে, লটারিতে তাদের নাম একাধিক বার এসেছে। বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একাধিক বার আবেদন করা শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে না বলে নির্দেশ দেয়। ভর্তি প্রক্রিয়া পর্ব চূড়ান্ত করতে বগুড়া জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করে। এর মধ্যে বগুড়া জিলা স্কুলে ২০৫ জনের মধ্যে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৬৫ জন এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০৬ জনের মধ্যে ৮৯ জন। মোট ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ১৫৪ জন।

লটারিতে একাধিক বার নাম ওঠার কারণে মাউশি গত ১৪ ডিসেম্বর জন্ম সনদ জালিয়াতি করে একই শিক্ষার্থী লটারিতে একাধিক বার নির্বাচিত হয়ে থাকলে তাকে ভর্তি না করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে আট দফা নির্দেশনা দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতাধিক বার আবেদন জমা পড়েছে পাঁচ জনের। এর মধ্যে একজন ১৫৬ বার, একজন ১১০ বার এবং দুই জন ১২৪ বার, একজন ১১২ বার। ১০ থেকে ৫০ বার আবেদনও করা হয়েছে।

এ ঘটনার জেরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রায় ২০ জন নারী ও পুরুষ অভিভাবক জিলা স্কুলের প্রশাসনিক ভবনের দরজার ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে আসেন। এ সময় অভিভাবকরা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময়ে জিলা স্কুলের দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলম ও প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার ইসলাম হেনস্তার শিকার হন।

একাধিক বার আবেদন করে বাদ পড়া শিক্ষার্থীর অভিভাবক রেফাত আরা বলেন, ‘আমি না বুঝেই দিবা ও প্রভাতি শাখার একবার করে দুই বার আবেদন করেছি। এজন্য আমার ছেলেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ দিলে কেন তারা আবেদন একাধিক বার নিয়েছে।’

বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মোস্তফী বলেন, মাউশির সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী যারা একাধিক বার আবেদন করেছে তাদের ভর্তি করানো হচ্ছে না। আর যেসব শিশুর বয়স ইতিপূর্বে মাউশির নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম বা বেশি বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদেরও ভর্তি না করার পূর্বের সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে কয়েক জন অভিভাবক এসে হট্টগোল শুরু করেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে এনে মাউশির কাছে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছি।

বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন জানান, মাউশির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে। অপেক্ষমাণ তালিকা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম চলবে। এই তালিকাতেও যদি একাধিক আবেদনের কারণে আবারও আসন শূন্য হয় সেক্ষেত্রে জেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা সিদ্ধান্ত নিবে।

ইত্তেফাক/এমএএম