ডাচ অপরাধ চক্র অবৈধভাবে বিস্ফোরক বিক্রি করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এক বছরব্যাপী তদন্তের পর বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ আতশবাজি উদ্ধার করা হয়েছে। যার মূল্য দেড় লাখ ইউরোর বেশি। এই বিপজ্জনক ও শক্তিশালী আতশবাজিগুলোর বেশিরভাগই জার্মানির ওকট্রপের কাছে একটি বাঙ্কারে পাওয়া গেছে। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইউরোপোলের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় ডয়চে ভেলে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম জার্মানির এই গ্রামটি ডাচ শহর এনশেডে থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। ২০০০ সালে এই ডাচ শহরে ইউরোপের সবচেয়ে মারাত্মক আতশবাজি বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
ইউরোপোল জানিয়েছে, অজ্ঞাতনামা একটি সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) এ অভিযান চালানো হয়। এটি অবৈধ আতশবাজি পাচারের আরেকটি সমান্তরাল তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই ধরনের আতশবাজি খোলা বিক্রয় নিষিদ্ধ। কিন্তু সন্দেহভাজন দলটি বিপজ্জনক পটকাগুলোকে অনিরাপদ স্থানে মজুত করে বেআইনিভাবে মানুষের কাছে বিক্রি করছিল।
বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, এর মধ্যে কিছু আতশবাজি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো মূলত ডাচ নববর্ষ উৎসবের জন্য অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছিল। ক্রেতারা বিভিন্ন সীমান্ত ক্রসিং থেকে আতশবাজি সংগ্রহ করতে পারতো।
ইউরোপোল এক বিবৃতিতে জানায়, সন্দেহভাজনরা গোপনে আতশবাজি বিক্রির জন্য নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তাদের বৈধ কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল। যা ছিল আতশবাজি বিক্রি সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম লঙ্ঘনের প্রচেষ্টা।
ইউরোপোলের বিবৃতিতে জানানো হয়, এ অভিযানে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। এই শক্তিশালী আতশবাজিগুলো সহিংসতা বা অপরাধ ঘটাতে এবং এটিএম বুথ আক্রমণ করতেও ব্যবহৃত হয়।
মঙ্গলবারের অপারেশনের জন্য ইউরোপোল জার্মান আঞ্চলিক পুলিশ, ডাচ ন্যাশনাল পুলিশ এবং আমস্টারডামের ডাচ প্রসিকিউশন অফিসকে সহায়তা করেছিল। গত নভেম্বরে ইউরোপোলের বিশেষায়িত টাস্ক ফোর্স ৩৫০ টন বিস্ফোরক জব্দ করেছে যার বাজার মূল্য ২৫ মিলিয়ন ইউরো।
নববর্ষ উদযাপনের একটি প্রধান অংশ হিসেবে উভয় দেশের ভক্তরা প্রতি বছর আতশবাজিতে মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যয় করে। তবে আতশবাজির কারণে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আকাশ থেকে ছাই বৃষ্টি হয়, যা পশুপাখিদের ভীত করে আর দিনের পর দিন রাস্তা আবর্জনায় ভরে থাকে।
২০২০ সালে নেদারল্যান্ডস ভারী আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছিল। তবে আমস্টারডাম ও রটারডামসহ দেশের ১২টি পৌরসভা সম্পূর্ণরূপে আতশবাজি নিষিদ্ধ করে।
করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে গত দুই বছর ধরে জার্মানিতেও আতশবাজি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন।
গত শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) রটারডামের কাছে ২৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরক আতশবাজি তার মুখ উড়িয়ে দেয়। এনশিড বিস্ফোরণে ২৩ জন নিহত এবং এক হাজার জন আহত হয়। এছাড়াও ৪০০টি বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে।
