বুড়িগঙ্গা তীরের তেলের পাম্প ইটভাটা ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০৬

ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় বিশটি অবৈধ কাঁচাপাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। রবিবার দুপুর বারোটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে নদী তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ ডকইয়ার্ড, ইটভাটা, তেলের পাম্প উচ্ছেদ করা হয় এবং বালু দিয়ে নদী ভরাটের সময় একটি অবৈধ ড্রেজার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। নদী দখলের অভিযোগে একটি ডকইয়ার্ড প্রতিষ্ঠানকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানাসহ এক কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক গুলজার আলী, উপ-পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ ও সহকারী পরিচালক এহতেশামুল পারভেজ।

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নদীর তীরে ইটভাটা ও ডকইয়ার্ড নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হলেও তারা শর্ত ভঙ্গ করে নদীর বেশ কিছু পরিমাণ জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নদীকে সংকুচিত করে ফেলেছে। তাই উচ্চ আদালতের নির্দেশে নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে উচ্ছেদের আগে কোনো সময় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন গুঁড়িয়ে দেওয়া তেল পাম্পের কর্মকর্তা মো. সাকিব।

তিনি বলেন, আগে থেকে সময় দেওয়া হলে তারা তাদের মেশিনপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরিয়ে নিতে পারতেন। উচ্ছেদ অভিযানে তাদের বিশ লাখ থেকে পঁচিশ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ দাবি করেন, অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় তাদের অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। টানা আরো আটদিন এই উচ্ছেদ অভিযান চলবে জানিয়ে শহিদুল্লাহ বলেন, পর্যায়ক্রমে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী এবং মেঘনা নদীতেও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে নদীগুলো দখলমুক্ত করা হবে।