নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে বঙ্গবন্ধু সড়ক, লিংক রোড কিংবা সলিমুল্লাহ রোডসহ সকল রোডেই যাতায়াতের জন্য অতি পরিচিত যান লেগুনা। আছে লেগুনার সিটি সার্ভিস, বুড়িগঙ্গা সার্ভিস এবং ইউনিটি সার্ভিস। যাতায়াত সুবিধার কারণে এইসব লেগুনা দিয়ে অনেকেই যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো নগরের ব্যস্ততম সড়কে যাত্রী বোঝাই এসব লেগুনার বেশ কটিরই স্টিয়ারিং সামলাচ্ছে কোমলমতি শিশু-কিশোররা। যেখানে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোই নিষিদ্ধ, সেখানে শিশুদের দিয়ে গাড়ি চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে।
চাষাঢ়া থেকে ৩ রুটে ২ শতাধিক লেগুনা চলমান। বেশিরভাগ চালকের বয়স ১৮ এর চেয়ে অনেক কম। চালকের সহকারীর বয়স আরো কম। বয়স ৬ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। এই শিশুরা লেগুনার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের থেকে ভাড়া সংগ্রহ করে। সর্বদাই ঝুঁকির মুখে থাকে তাদের জীবন। জানা যায়, বেশিরভাগ লেগুনা চালকের কোনো লাইসেন্স নেই। পারিশ্রমিক কম হওয়ায় এই শিশু চালকদের দিয়েই লেগুনা চালাচ্ছে মালিকেরা। বাংলাদেশ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি’র (বিআরটিএ) আইন অনুযায়ী ভাড়া গাড়ি চালাতে একজন চালকের বয়স ন্যূনতম ২০ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। আর প্রাইভেট গাড়ির চালকের বয়স হতে হবে সর্বনিম্ন ১৮। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা করছে না কেউ। শিশু চালকদের অনেকেরই গাড়ি চালানোর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই। সহকারীর কাজ করতে করতেই অনেকে চালক বনে গেছেন। আনাড়ি এসব চালক প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। প্রতিদিন প্রশাসনের চোখের সামনে হাজারো শিশু চালক লেগুনা চালিয়ে যাচ্ছে। যে সময় তাদের বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা সে সময়ে জীবিকার তাগিদে কিছু অসাধু মালিকের প্রলোভনে পড়ে জীবনটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাস্তায় নেমেছে তারা।
লেগুনা চালক মানিক (১৭) জানায়, সে লেগুনা চালাচ্ছে প্রায় ৫ বছর ধরে। সে বলে, ‘আমার বাপ নাই। মায় মাইনসের বাড়িতে কাম করে। ছোট দুইডা বইন আছে। আমার আর মার টেকা দিয়াই সংসার চলে। আগে হেল্পারি করছি। আর এরপর ড্রাইবার হইছি। আগে বাস চালাইতাম। এখন লেগুনা চালাই। প্রতিদিন খরচ বাদ দিয়া ছয়শ থেকে সাতশ টাকা হাতে থাকে।’
৯ বছর বয়সী হাসান প্রায় ১ বছর যাবত্ চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করছে। সে ও তার বন্ধু শরীফ ‘ড্রাইভার’ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। লেগুনার যাতায়াতকারী ভূঁইগড়ের বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, শিশু চালক দিয়ে লেগুনা চালিয়ে আমাদের জীবন ওরা ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই তো গাড়িগুলো চলছে। কই তারা তো কিছু বলে না। তারা কি আইন জানে না?’
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শরফুদ্দিন বলেন, অপ্রাপ্ত বয়সী চালক দিয়ে গাড়ি চালানো বিষয়টি সকলের নজরে রাখতে হবে। আর আমরাও লেগুনা ও বাসে অভিযান শুরু করব। বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ শাখার সহকারী পরিচালক আইনুল হুদা চৌধুরী বলেন, আমরা ঈদের আগে লেগুনার ফিটনেস ও লাইসেন্স ঠিক আছে তা দেখার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছি। মামলা ও জরিমানা করেছি।
