আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আমাদের মামলাজট কমিয়ে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আনতে হবে। কোনো বিচারপ্রার্থীকে বছরের পর বছর ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরতে দেখতে চাই না। বিলম্বিত বিচারে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনি তার ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হয়। তিনি বলেন, অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে পার পেয়ে যাওয়ার পরিণাম যে কত ভয়াবহ তা সমাজে ক্রমবর্ধমানহারে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের পরিসংখ্যান থেকে বুঝা যায়। দেখা গেছে ধর্ষণ মামলায় শেষ পর্যন্ত নগণ্য সংখ্যক আসামির সাজা হয়।
গতকাল রবিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রভাব-প্রতিপত্তি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ভিকটিমকে হয়রানি, সাক্ষ্য প্রমাণের অভাব, বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামিপক্ষের সমঝোতা ইত্যাদি কারণে অনেকে সাজা থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে ধর্ষণের মতো ঘৃণিত অপরাধ বেড়েই চলেছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, বর্তমানে দেখা যাচ্ছে সমাজের শিক্ষিত লোকেরাও ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধে ব্যাপক মাত্রায় জড়াচ্ছেন।
তিনি বলেন, আধুনিককালে উন্নত বিশ্বে অপরাধ বিজ্ঞান ও উন্নয়ন তত্ত্বের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক অর্থাত্ উন্নয়ন বাড়লে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং উন্নয়ন কম হলে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা বাড়বে—এই সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে উন্নয়ন ও অপরাধ সমানতালে চলছে। তাই যে কোনো উপায়ে আমাদের অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমাতে হবে। নইলে উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রদানে সহায়তা করে অপরাধ দমনে এগিয়ে আসুন। একজন অপরাধীও যাতে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বিচার এড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।
