নওগাঁর বিভিন্ন মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কে ইটভাটার ট্রলি থেকে পড়া মাটি শিশির ও বৃষ্টিতে কাদায় পরিণত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। সম্প্রতি বড় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে। দুর্ঘটনার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পিলারের ক্ষতি হয়।
তাই এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুকনো মৌসুমে পাকা সড়কের ওপর থাকা এই মাটি তেমন বিপদজনক না হলেও শীত মৌসুমে ভারী কুয়াশা ও বৃষ্টির পানিতে পাকা সড়কের ওপর পড়ে থাকা ওই মাটিগুলো কাঁদা হয়ে মরনফাঁদে পরিণত হয়। এতে করে এই সব সড়কের চলাচল করা মোটরসাইকেল, বড় বড় ট্রাকসহ সকল প্রকারের যানবাহনের চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাণীনগর-আত্রাই সড়কের উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক এখন কাদা সড়কে পরিণত হয়েছে। পথচারীরা সড়কে চলাচল করতে পারছে না। বিশেষত দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকেরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। সড়কের পাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। ইটভাটার ট্রাক্টরের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বহন করা মাটি সড়কে পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে ধুলায় টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছিল। এখন বৃষ্টি হওয়াতে পাকা সড়কগুলো কাদাময় হয়ে পড়েছে। চলাচলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে বেড়েছে দুর্ভোগ।
মোটরসাইকেল আরোহী আবু বক্কর জানান, ইটভাটার কাজে নিয়োজিত মাটিবাহী যানবাহন থেকে রাস্তায় পড়ে যাওয়া মাটি রোদের সময় রাস্তায় শুকিয়ে ধুলা আর বৃষ্টি হলেই কাদায় পরিণত হয়। দেখে বোঝার উপায় থাকে না এটা কার্পেটিং রাস্তা। এতে বছর জুড়েই সড়কগুলোতে চলাচল করতে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগে।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে রাণীনগরের ত্রিমোহনী হাটে আসা সাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি সপ্তাহে দুই দিন শনিবার-মঙ্গলবার হাটে কাঁচামাল সাইকেলে করে নিয়ে আসি। মাল নিয়ে আসতে যে কী পরিমাণ কষ্ট হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এমনকি রাস্তার মাঝে মাল বোঝায় সাইকেল নিয়ে কয়েকবার পড়েও গেছি।
জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা সড়ক দিয়ে মাটি পরিবহনের বিষয়ে চলতি বছরের প্রথম দিকে জনস্বার্থে একটি গনবিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিদের এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশনাও দিয়েছি। তারপরও যদি কেউ অপরিকল্পিতভাবে মাটি পরিবহনের সময় পাকা সড়কের ওপর মাটি ফেলেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
