সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো মোগল আমলের দেওয়ানের পুলটি ভাঙার কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। বাপা নেতাদের আহ্বান ও ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সেতু ভাঙার কাজ স্থগিত রেখেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সময়ে সেতুর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, পুলটি ভেঙে সেখানে নতুন পুল করার উদ্যোগ নিলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাতে আপত্তি জানান। তার পরও ঐ পুলটি গত বুধবার থেকে ভাঙা শুরু হয়। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ঘোর আপত্তি জানান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের নেতারা। তারা পুলটি অক্ষত রেখে সংস্কারের দাবি জানান। বুধবার দুপুরে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সেতু ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের তারা সেতুটি ভাঙতে নিষেধ করেন। ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে মোগল আমলের এ স্থাপত্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ভেঙে ফেলা অংশ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা। বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংগঠনটির সহসভাপতি মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী ও সদস্য গোলাম সোবহান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে সেতুটি পরিদর্শন শেষে আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত সেতুর ভেঙে ফেলা অংশ সংস্কার করে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সেতুটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া মোগল আমলের সেতু ভাঙায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে সিলেটের তৎকালীন দেওয়ানের (রাজস্ব কর্মকর্তা) নির্দেশে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ এলাকার শ্রীচৈতন্যদেবের বাড়িমুখী সড়কটি নির্মাণ করা হয়। এ সময় লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের দেওরভাগা খালে একটি সেতুও নির্মাণ করা হয়। সেতুটিই দেওয়ানের পুল নামে পরিচিত।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি ভারী যানবাহন বহনের ক্ষমতা হারানোর কারণে সেটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পুরোনো সেতুটির দৈর্ঘ্য ছিল ২০ ফুট ও প্রস্থ ১৬ ফুট। একই জায়গায় ৯৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩২ ফুট প্রস্থের সেতু বানানো হবে। এজন্য ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সেতুর সংযোগ সড়কটিও প্রশস্ত করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ইতিমধ্যে সেতুর বেশ খানিকটা অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেহেতু সবাই সেতুটি রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছেন, তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

