সবার জন্য শুভ হোক ২০২৩

আসুক আলো, জাগুক আশা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:০১

প্রতিদিনের সঙ্গে আজকের দিনটির আপাতদৃষ্টিতে কোনো তফাত নেই। তা না-ই থাকুক, তবু আজকের সূর্যের প্রথম কিরণে মানুষ খুঁজে নেবে আশাজাগানিয়া আলো। শীতের হিমেল হাওয়ায় উষ্ণতা ছড়িয়ে, কুয়াশা চাদর সরিয়ে নতুন বছরের আলো আজ ছড়িয়ে পড়েছে দিগন্তে। অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় আজকের এই দিনের আলো মনে-প্রাণে আশা জাগায়। দেখায় নতুন স্বপ্ন। শত বাধা ডিঙিয়ে শুভ, সুন্দর জীবনের সন্ধানে জোগায় সাহস।

আজ ২০২৩ সালের প্রথম দিন। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আর সবার মতো আমরাও আমাদের অগণিত পাঠককে জানাই ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরটি সবার জীবন থেকে কষ্ট দূর করে দিয়ে আনন্দে, শান্তিতে ভরে উঠুক—এই প্রত্যাশা।

আজ নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা নেবে মানুষ। নতুন বছরটি যেন সমাজজীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সব গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

নতুন বছর সবার মধ্যে জাগিয়ে তোলে আশা, সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়। স্বভাবতই নতুন বছর নিয়ে এবারও মানুষের প্রত্যাশা একটি মুক্ত স্বাধীন শান্তিময় বিশ্ব। বাংলাদেশের জন্য অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা, শোষণ-দারিদ্র্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে দেশের উন্নয়নের গতি ঠিক রাখা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমিয়ে এনে মানুষের জীবনের চাপ কমিয়ে জীবনের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে মূল চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক, মানবিক, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন বছরে দেশের উত্তরণ ঘটবে, রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে দেশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে—এটাই নতুন ইংরেজি বছরে সবার প্রত্যাশা।

দেশবাসীকে নতুন বছর ২০২৩ উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘নববর্ষ সবার মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ—এই প্রত্যাশা করি।  খ্রিষ্টীয় নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো জোরদার হোক, সব সংকট দূরীভূত হোক, সব সংকীর্ণতা পরাভূত হোক এবং সবার জীবনে আসুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমন্ধি—এই প্রার্থনা করি।’

গত বছরের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব খুঁজতে খুঁজতে নতুন বছর সামনে রেখে আবর্তিত হবে নতুন নতুন স্বপ্ন। বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ পালনের ধরন বাংলা নববর্ষ পালনের মতো ব্যাপক না হলেও এই উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়। করোনা মহামারি কাটিয়ে ২০২২ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো, শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতি তার ছন্দ ফিরে পাওয়ার সময়টাতেই পুরো পরিস্থিতি পালটে দিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা দেশের মানুষের জীবনকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির জালে আটকে ফেলেছে। এর প্রভাব পড়েছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। ডলারের মূল্য ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে আমদানি পণ্যে তো বটেই, সব পণ্যের দাম চড়তে থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তেল-চিনির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দফায় দফায় বাড়িয়েছেন দাম।

মানুষের এমন জীবনযুদ্ধের মাঝে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে চালু হয়েছে পদ্মা সেতু। মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ, যা দেশের মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। এর মাঝে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের অর্জন আনন্দে ভাসিয়েছে দেশকে, আশা জাগিয়েছে। আর ক্রিকেট সারা বছরই ছিল অম্লমধুর।

সংসদ নির্বাচনের এক বছর আগে বিএনপিসহ অন্যান্য কয়েকটি রাজনৈতিক দল সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে, যা অনেক দিন পর রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

মহাকালে মিলিয়ে গেল আরো একটি খ্রিষ্টীয় বছর। সেইন্ট গ্রেগরি প্রবর্তিত ক্যালেন্ডারের হিসাবে ২০২২ সাল শেষ হয়ে গত রাত ১২টার পর শুরু হয়েছে ২০২৩ সাল। সারা বিশ্বের মানুষ আনন্দ-উল্লাস করে পালন করছে এই নতুন বছরের শুরুর ক্ষণটি। বাংলাদেশেও ২০২৩ সালকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের আগামী বছরের মঙ্গল কামনা করে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো শুরু হয়ে গেছে ফেসবুক, টুইটার ও মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে। নববর্ষকে ঘিরে বিক্রির জন্য রংবেরঙের নতুন ক্যালেন্ডার ও ডায়েরিতে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন বিপণিবিতানের প্রাঙ্গণ। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো নতুন বছরকে বরণ করতে বাংলাদেশেও এবার নানা আঙ্গিকের অনুষ্ঠান আয়োজন ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিধিনিষেধ মাথায় রেখেই এবার ইংরেজি নববর্ষ উদ্যাপনে মেতেছিল দেশবাসী। দেশের পাঁচ তারকা হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলোতে নববর্ষ উপলক্ষ্যে ছিল নানা আয়োজন।

ইংরেজি বর্ষপঞ্জি :যিশু খ্রিষ্টের জন্ম তারিখ থেকে যে সাল গণনা শুরু হয়েছিল, তা-ই আজ বিশ্ব জুড়ে ইংরেজি বর্ষ হিসেবে পরিচিত। তবে ১৫৮২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগোরির আদেশে এই বর্ষপঞ্জির প্রচলন হয়। সে জন্য একে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিও বলা হয়।

 

ইত্তেফাক/ইআ