হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিয়াম আহমেদ নামে ৯ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার চর আবুপুর গ্রামের দুর্গম চর থেকে নিহত সিয়ামের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মামা সাফায়াত হোসেনকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। নিহত সিয়াম উপজেলার জিরুন্ডা গ্রামের হাফেজ নূর উদ্দিনের ছেলে।
লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে সিয়ামের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রবিবার গ্রামে বাড়ি জিরুন্ডায় সিয়ামের মরদেহ কবর দেওয়া হয়। এলাকাবাসী জানায়, সিয়ামের বাবা নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার করারচর বেসিক শিল্প-নগরী এলাকায় হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করেন। ব্যবসার সুবাদে তারা সপরিবারের সেখানেই থাকেন। সিয়াম সেখানকার একটি কিন্টার গার্ডেনে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন সিয়াম বাড়ির বাইরে গেলে তার চাচাত মামা সাফায়াত হোসেন তাকে অপহরণ করে। এ ঘটনায় সিয়ামের বাবা শিবপুর থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বিভিন্ন স্থানে সিয়ামকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে গত ১৩ জুন ঢাকার সায়দাবাদ থেকে সাফায়াতকে আটক করে। সাফায়াত ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার মাছমা গ্রামের হাবীব মিয়ার ছেলে।
আরও পড়ুন: মান্দায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষক-ছাত্র নিহত
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাফায়াত জানায়, মুক্তিপণের জন্যই মূলত সে ও তার কয়েকজন সহযোগী সিয়ামকে অপহরণ করে। সাফায়াত কণ্ঠ পরিবর্তন করে নিহত সিয়ামের মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু সিয়ামের পরিবার দিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরদিন আবার ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে তা বিকাশের মাধ্যমে দিয়ে দেন নিহত সিয়ামের পরিবার। কিন্তু পরিচয় জেনে যাওয়ার ভয়ে সিয়ামকে নিয়ে ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশালে চলে যায় সাফায়াত। পরে তাকে বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার চর আবুপুর গ্রামের দুর্গম চরে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে চলে আসে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে শনিবার নিহত সিয়ামের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেন জানান, 'শিশু সিয়াম হত্যার ঘটনায় তার চাচাতো মামা সাফায়াতকে আটক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সিয়ামের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।'
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
