খরচ সামলাবেন যেভাবে

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৯, ১৮:২১

আমরা যেসব খাতে টাকা ব্যয় করি তার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে টাকা বেশি ব্যয় হয়। সবকিছুর মধ্যে থেকে ৫টি খাতের কিছু বিষয় বিবেচনা করে চলতে পারলে খরচের লাগাম অনেকটাই সামলে ধরা যাবে।

বাজেট :মাসের শুরুতেই পুরো মাসের খরচের একটা বাজেট তৈরি করে নিয়ে যদি খরচ করতে পারেন, তবে অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ করা যাবে। কী কী লাগবে, কোন খাতে কত ব্যয় করবেন এইসব প্ল্যান করে নিয়ে যদি খরচ করেন তবে বাহুল্য ব্যয় অনেকটাই রোধ করা যাবে।

যাতায়াত :দিন দিন যে হারে জ্বালানি তেল, গ্যাসের দাম বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গাড়ি, সিএনজি ভাড়াও। এইসব দিক বিবেচনা করে যাতায়াতের জন্য পাবলিক বাস ব্যবহার করলে খরচ অনেক কমে যাবে। কোথাও তাড়াতাড়ি যাওয়ার তাড়া থেকে ক্যাব বা সিএনজি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু তাড়াহুড়া না করে যদি হাতে অনেকটা সময় নিয়ে গন্তব্যের দিকে রওনা হন তবে ক্যাব বা সিএনজির ভাড়াটা বেঁচে যাবে।

মোবাইল বিল :অপ্রয়োজনে মোবাইলে দীর্ঘ সময় কথা বলার একটা ট্রেন্ড চালু হয়েছে। তারুণ্যের উচ্ছলতা তো থাকবেই। তাই বলে রাত জেগে কথার ফুলঝুড়ি ফোটানোর দরকার নেই। ইদানীং আরও একটা ব্যাপার লক্ষ করা যায়, প্রতিদিন মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যেটা হয় সেটা হলো প্রায় প্রতিদিনই অল্প অল্প করে ব্যালেন্স রিচার্জ করা হয়। এতে দেখা যায় এইসব মোবাইল বিলের সঠিক কোনো হিসাব থাকছে না। অনেক বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যদি হিসাব করে মাসের শুরুতে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যালেন্স মোবাইলে রিচার্জ করেন তবে সেই লিমিটের মধ্যে মাস শেষ করতে চেষ্টা করুন। এতে ব্যয় অনেকটাই কমে যাবে।

খাবার :তরুণদেরকেই বাইরের খাবার, ফাস্ট ফুড খেতে বেশি দেখা যায়। বন্ধুদের সঙ্গে কফি শপে, আইসক্রিম পার্লারে বা কোনো রেস্তোরাঁয় আড্ডা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে খাওয়াদাওয়া। এতে করে অনেক বেশিই খরচ হয়ে যায়। তাই আড্ডার ফাঁকে খাওয়ার খরচ কমাতে কোনো পার্কে বা কোনো বন্ধুর বাসায় বা কলেজ ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে পারেন জমিয়ে। আর বন্ধুদের খাওয়াতে চাইলে বাইরের খাবার না খাইয়ে বাসায় দাওয়াত করতে পারেন। এতে স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়াও হবে, সঙ্গে বাহুল্য খরচ অনেকটাই কমে যাবে।

শপিং :এই খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে তরুণীরা। বান্ধবীরা মিলে মার্কেটে ঘুরতে যাওয়া অনেক তরুণীরই প্রিয়। এতে করে মার্কেটে ঘুরতে ঘুরতে অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যায়। এতে অনেকটা খরচ হয়ে যায়। আরও একটা বিষয় লক্ষ করা যায়, কারও সঙ্গে শপিংয়ে গেলে তার দেখাদেখি কিছু একটা কিনে ফেলা, যেটা আসলেও ততটা প্রয়োজনীয় নয়। তাই যারা এমন কিছু বাড়তি খরচ করেন তারা মার্কেটে ঢুকবার আগেই মনস্থির করে নিবেন যে অপ্রয়োজনীয় কিছু কিনবেন না। সেটাও যদি সম্ভব না হয় তবে পারতপক্ষে মার্কেটে যাওয়া কমিয়ে দিন।