সারা দুনিয়া তাকে পেলে নামেই একবাক্যে চিনে। পেলে নামেই দুনিয়া কাঁপিয়েছেন। পেলে নামেই অমর হয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু তার নাম কিন্তু পেলে ছিল না। পুরো নাম এডসন অরান্তেস দো নাসিমেন্তো। পারিবারিক ডাক নাম ছিল ডিকো। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ছোটবেলায় তার বন্ধুবান্ধব, পাড়া প্রতিবেশিরাও তাকে ডিকো নামেই ডাকত। কিন্তু পরিবারের দেওয়া এসব নাম বাদ দিয়ে একদিন তিনি পেলে ডাক নাম পাবেন এবং নতুন এই নামেই বিশ্ব জুড়ে বিখ্যাত হবেন, এমনটা তখন কারো কল্পনাতেও ছিল না।
কেউ ভাবতে না পারলেও সেটাই হয়েছে। ব্রাজিল কিংবদন্তি ‘পেলে’ ডাকনামটা পেয়েছেন স্কুলে পড়ার সময়। তার স্কুলের বন্ধুরা তাকে এই ডাক নামটি দিয়েছিল। তবে বন্ধুরা তাকে ‘পেলে’ ডাক নাম দেওয়ার পেছনে মজার একটা গল্প রয়েছে। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ভাস্কো দা-গামার গোলরক্ষক ‘বিলে’ ছিলেন পেলের প্রিয় খেলোয়াড়। কিন্তু মুখের জড়তার কারণে ছোট্ট পেলে ‘বিলে’ শব্দটি উচ্চারণ করতে পারতেন না। ‘বিলে’কে তিনি ‘পেলে’ বলতেন! ব্যস, তার বন্ধুরাও ব্যঙ্গ করে তাকে ‘পেলে’ নামে ডাকতে শুরু করে। কিছু দিনের মধ্যেই পরিবারের দেওয়া নাম আড়ালে পড়ে যায়। ‘পেলে’ নামেই পরিচিত হতে থাকেন। বাকিটা ইতিহাস।
জীবদ্দশায় পেলে নিজেই স্বীকার করেছেন ‘পেলে’ নামের অর্থ কি, তিনি জানেন না। এমনকি যে বন্ধুরা ব্যঙ্গ করে তাকে ‘পেলে’ ডাক নামটি দিয়েছিল তারাও এর অর্থ জানেন না। ‘বিলে’ থেকেই ‘পেলে’ নামটি এসেছে। হিব্রু ভাষায় ‘পেলে’ শব্দটি এসেছে ‘মিরাকল’ বা ‘অলৌকিক’ থেকে। তবে ব্রাজিলিয়ানদের ভাষা পর্তুগিজে ‘পেলে’ শব্দের কোনো অর্থ নেই। তা পর্তুগিজ ভাষায় কোনো অর্থ না থাক। বাস্তবতার মানদণ্ডে ‘পেলে’ শব্দটির অর্থ এখন সুমহান। পেলে মানে ফুটবলের রাজা, পেলে মানে ফুটবলের হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা, পেলে মানেই ইতিহাস, পেলে মানেই বিশ্ব ফুটবলের চিরন্তন এক প্রতিষ্ঠান।
