‘স্বাধীনতা সুখ’ কবিতার বাবুই পাখির মতো নিজের ভাঙাঘরে সুখেই জীবন যাপন করে আসছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের মৃত বাছের উদ্দিনের স্ত্রী বিধবা হাজরা বেওয়া (৬০)। কিন্তু কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে তীব্র শীতে তার ভাঙা ঘরের সেই সুখ যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, একই গ্রামের শেফালি বেওয়া (৫৫) নামে অপর এক বিধবারও একই অবস্থা।
সরকারিভাবে ঘর পেয়েও এ দুই বিধবা স্বামীভিটার ভাঙাঘরে থাকছেন। কিন্তু এই শীতে কষ্ট পেয়ে ঘরে মেরামতের জন্য বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে বিধবা হাজরা বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরটির দক্ষিণ দিকের টিনের চালা ভেঙে গেছে। সেই ভাঙা অংশ দিয়ে ঘরে বসেই মেঘাচ্ছন্ন বিশাল নীল আকাশ দেখা যাচ্ছে। এতো শীতের মাঝেও পাতলা একটি কাঁথা মুড়িয়ে আপন মনে কুরআন তেলাওয়াত করছেন বিধবা হাজরা। এ সময় সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, বাবা গত দুই বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকম দিন পার করতেছি। টাকা না থাকায় টিন কিনে ঘর মেরামত করতে না পেরে শীতের মধ্যে ভাঙা ঘরেই অনেক কষ্টে বসবাস করছি।
তাই ঘর মেরামত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলসহ সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য কামনা করেছেন বিধবা হাজরা বেওয়ার।
একই গ্রামের বিধবা শেফালি বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তার থাকার জন্য আলাদা কোনো ঘর না থাকায় তিনি গোয়াল ঘরের এক কোনো একটি খাটলি (ছোট খাট) বিছিয়ে কোনো রকমে জীবন যাপন করছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা লালবাবু মিয়া, একরা মিয়াসহ অনেকেই বলেন, বিধবা শেফালির স্বামী সাহাবুদ্দিনের মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করে আসছিলেন। পাঁচ বছর আগে বড় ছেলে এক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে পড়লে তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃশ্ব হয়ে পড়ে। বর্তমানে একটি ঘরে তার পঙ্গু ছেলে আর একটি ভাঙা ঘরে গরুর পাশাপাশি বিধবা শেফালি বসবাস করে আসছেন।
দুই বিধবার দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বাহাগিলি ইউনিয়নের ১নম্বার ওয়ার্ড সদস্য বাবুল হোসেন বলেন, আমি ওই দুই বিধবাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকার জন্য বলেছিলাম কিন্তু তারা স্বামীর ভিটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরই আলম সিদ্দিকী বলেন, ওই দুই বিধবার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
