কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদক সেবনের টাকার জন্য চার পরিবারের পাঁচ শিশু সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শিশু বিক্রির ঘটনাকে কন্দ্রে করে ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের অভিযোগ, মঙ্গলা বেগম নামে এক নারী ভিক্ষুকের মাধ্যমে শিশু কেনাবেচার ঘটনাগুলো ঘটেছে।
মূলত এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বিক্রি হওয়া এক সন্তানের বাবা জাকির মিয়া। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কয়েকটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশার টাকা যোগাড় করতে উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের চারটি পরিবারের পাঁচটি শিশু সন্তানকে পৃথক পৃথক সময়ে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেন ও ফারজানার দম্পতি তাদের নবজাতক ছেলে সন্তানকে গত ২ সেপ্টেম্বর ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে, সাদ্দাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া দুটি সন্তান এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। জাকির হোসেন তার শিশু সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকা এবং একই এলাকার আসাদ মিয়া তার সন্তানকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, সন্তানদের প্রথমে যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল তারাই আবার বেশি টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে। যার ফলে এসব শিশুদের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চরপুক্ষীয়া গ্রামের, জয়নাল মিয়া, বকুল মিয়া, বাবুল মিয়া, জামাল মিয়া, কালাচাঁন, সখিনা, কালু মিয়া, নুরুন্নাহার ও গ্রাম পুলিশ দুলাল মিয়াসহ বেশ কিছু গ্রামবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে মাদকাসক্ত মা-বাবা নিজেরাই তাদের ঔরসজাত সন্তানদের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে এবং সেই টাকায় মাদক সেবন করছে।
কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি বর্তমানে আমার গ্রামের পরিচয় দিতে পারি না। উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে, আমাদের বাড়ি শুনলেই, লোকজন বলে তোরা সবাই মাদকাসক্ত। তোদের গ্রামের লোকজন মাদকের টাকার জন্য নিজেদের সন্তান বিক্রি করে দেয়।’
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সেবনের টাকার জন্য বিভিন্ন সময় পাঁচটি শিশু সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার কথা শুনেছি। আমি আমার পরিষদের সমস্ত সদস্য ও প্রশাসনের সহায়তায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করব।
অভিযোগের বিষয়ে শনিবার সরজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারগুলোর হদিস পাওয়া যায়নি। সন্তান বিক্রির বিষয়টি জানাজানির হওয়ার পর তারা পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে অভিযোগের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামটি খুবই দরিদ্র। সেখানে মাদকাসক্ত লোকজন বেশি। মাদকের টাকা জোগাড় করতে তাদের সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। মাদক নির্মূলে সচেতনতা জরুরি, সবাইকে নিয়ে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর সহায়তায় এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

