বর্তমানের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভারতের আইপিএল শুরু হয় ২০০৮ সালে। টুর্নামেন্টটির আদলে তার তিন বছর পর বিসিবি শুরু করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এরপর পার হয়েছে দীর্ঘ এক দশক। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ ক্রিকেট খেলুড়ে অন্যান্য দেশেও এখন আয়োজন হয় এরকম ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগ।
আইপিএলসহ অন্যান্য দেশে টুর্নামেন্টের মান বাড়লেও এখনো বিপিএলের নির্দিষ্ট কোন কাঠামোই ঠিক হয়নি। প্রতি বছর পরিবর্তন হয় টুর্নামেন্টের নানা বিষয়। এখন পর্যন্ত অনুশীলন করতে হয় সবগুলো দলকে সবেধন নীলমণি মিরপুর একাডেমি মাঠে (অবশ্য এবার দুটি দল সাকিবের একাডেমিতে বরিশাল এবং বসুন্ধরায় কুমিল্লা তাদের অনুশীলন ভেন্যু বানিয়েছে।
এবারের বিপিএল মাঠে গড়াতে সময় আছে আর মাত্র দুই দিন, কিন্তু এখনো সব দলের অনুশীলন কিট ও জার্সি বানানোই শেষ হয়নি। শুরুর দিকে বিপিএল ঘিরে যে আগ্রহ উদ্দীপনা ছিল সেটিও যেন ক্রমেই স্তিমিত হয়ে আসছে। এবারের আসরে কমেছে বিদেশি তারকা খেলোয়াড়ের সংখ্যাও। বিসিবি অবশ্য বলে আসছে আইপিএলের পরেই বিপিএলের অবস্থান। যদিও খুলনা টাইগার্সের কোচ স্বীকার করে নিলেন পিছিয়ে পড়ার কথা। বাতলে দিলেন তা থেকে উত্তরণের পথও।
মঙ্গলবার খুলনার অনুশীলন শেষে কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘পেশাদার হিসেবে আমরা খুবই ভালো ছিলাম। আইপিএলের পরেই আমরা ছিলাম। কিন্তু সবাই অনেক এগিয়েছে। সারা বিশ্বে আইপিএলের ওপর কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নেই। আমি খেলোয়াড় হলেও সেখানেই যেতাম। আমরা ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছি না। মালিকরাও তিন চার বছর আগে কয়েকটি বড় বাজেটের দল গড়লেও এখন আর কেউ সেটি করছে না।’
কেন এমনটি হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের উপায়ই বা কি? সেটির জবাবও দিলেন সুজন। বলেন, ‘আমাদের টুর্নামেন্টের স্ট্যাবিলিটি আনতে হবে। এর জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও স্ট্যাবিলিটি আনতে হবে। আর সেটির জন্য দরকার রেভিনিউ শেয়ারিং সিস্টেম। ব্যবসায়ীরা এসে কেবল ১০-১৫ কোটি টাকা খরচ করবে তার বিনিময়ে কিছুই পাবে না সেটি তো হয় না। স্পন্সর থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা তুলতে পারছে এমন নয়। দুই তিন বছর ধরে লস করার পরে আর কেউ লস করতে চাইবে না। আপনি যদি আট বছরের জন্য দল নেন তখন প্রথম তিন বছর লস করবেন। এরপর ব্রেক ইভেনে যাবেন। তার পর লাভ করা শুরু করবেন। আমাদের চিন্তা করতে হবে বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য উইন উইন পরিস্থিতি কীভাবে আনা যায়। বিজনেস মডিউল নিয়ে কাজ করতে হবে। এমন কিছু হলে অনেকেই আগ্রহ দেখাত। বিপিএল বড় হবে।’
এছাড়া বিপিএলকে আরো আকর্ষণীয় করতে ভালো স্থানীয় ক্রিকেটার তুলে আনতে ফ্র্যাঞ্চাইজিদেরও সারা বছর কাজ করার পরামর্শ দেন সুজন। তিনি বলেন, ‘আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যেমনটি সারা বছর ট্যালেন্ট হান্ট করে। সেভাবে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিরা প্রতিভা খুঁজে প্রশিক্ষিত করলে পাইপলাইন থেকে আমরা আরো কিছু ভালো ক্রিকেটার পাব।’
এছাড়া বিপিএলের আগে একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সুজন। খুলনা কোচ বলেন, ‘বিপিএল আসলে একটা চাপ তৈরি হয়ে যায়। আমরা যদি বিপিএলের আগে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট করতে পারি, তবে খুব ভালো হয়। তাহলে বিপিএলে অনেক খেলোয়াড় ফর্মে থাকত।’
