রাণীনগরে বেড়েছে কেঁচো সারের ব্যবহার, স্বাবলম্বী নারীরা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৪২

ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় তৃণমূলের কৃষকরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ভার্মি কম্পোস্টের (কেঁচো সার) দিকে ঝুঁকছেন নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকরা। আর কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে এই কেঁচো সার উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে উপজেলার কুজাইল মহিলা সিআইজি (সবজি) সমবায় সমিতি।

এদিকে, উপজেলার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ সারের উৎপাদনে সুফল পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুজাইল মহিলা সিআইজি (সবজি) সমবায় সমিতির সভানেত্রী ও রাজশাহী বিভাগের সফল নারী উদ্যোক্তা মোছা. সানজিদা বেগম বলেন, এক সময় আমার সংসারে অভাব ছিল। ওই অবস্থায় ২০১৮ সালে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় আমার আশেপাশের কয়েকজন নারীদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে প্রথমে তিনটি রিং-এ থাই কেঁচোর দ্বারা ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করি। সেই সার দিয়ে আমি ও আশেপাশের নারীরা পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ করি। সেই বিষমুক্ত সবজি নিজেদের চাহিদা পূরণের পর বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছি।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কৃষি অফিসের সহায়তায় ২০টি রিংয়ে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করছি। বর্তমানে আমাদের উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্টের সুনাম আশেপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের চাহিদা পূরণ করে প্রতি মাসে এই কম্পোস্ট সার বিক্রি করে ২০ টাকা হাজার পর্যন্ত আয় হচ্ছে তাদের। এছাড়া দূরদূরান্তের কৃষকরা এ সার ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রাসায়নিক সার আর কীটনাশকের যত্রতত্র ব্যবহারে মাটির জীবনবায়ু প্রায় ওষ্ঠাগত। এ অবস্থায় আমাদের চাষাবাদে জৈব সার, কম্পোস্ট সারের বিকল্প নেই। বিভিন্ন প্রকার জৈব বস্তুতে (উদ্ভিদ ও প্রাণিজ) বিশেষ প্রজাতির কেঁচোর পাচন ক্রিয়ার ফলে জমিতে প্রয়োগের উপযোগী যে জৈব সার পাওয়া যায় তাই ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার।

তিনি বলেন, উপযুক্ত পরিবেশে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে প্রায় ৪০ দিন সময় লাগে। ভার্মি কম্পোস্ট মাটির নিরাপদ স্বাস্থ্যে ভীষণ জরুরি। কেঁচো কম্পোস্টে অন্যান্য কম্পোস্টের চেয়ে প্রায় সাত থেকে ১০ ভাগ পুষ্টিমান বেশি থাকে। প্রথম দিকে কম্পোস্ট তৈরি হতে সময় বেশি লাগে (৬০-৭০ দিন), পরবর্তীতে মাত্র ৪০ দিনেই কম্পোস্ট তৈরি হয়।

কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ধান, গম, পাটসহ বিভিন্ন শাক-সবজি, ফলবাগানে এই সার ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এর ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে, মাটিতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়, পানির ধারণক্ষমতা বাড়ে, বিষাক্ততা দূরীভূত হয়। এছাড়া মাছ চাষের ক্ষেত্রে কেঁচো সার প্রয়োগ করে কম খরচে অতি দ্রুত সুস্বাদু মাছ উৎপাদন করে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সানজিদা ও তার দল এক অনন্য দৃষ্টান্তর স্থাপন করেছে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই কম্পোস্ট সারের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমরা কৃষকদের এই সার উৎপাদন ও ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। ইচ্ছুক যে কোন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা এই সার উৎপাদনে সার্বিক সহযোগিতা করবো।

ইত্তেফাক/আরএজে