সংখ্যায় নগণ্য হলেও সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা অগ্রাহ্য করা যায় না। দেশের স্বার্থেই তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিরোধীদের মতামতেরও মূল্য রয়েছে। বিরোধী সাংসদের প্রতিটি কথারই মূল্য রয়েছে। সপ্তদশ লোকসভা অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধীদের প্রতি এ ভাবেই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংখ্যায় কম হলেও বিরোধীরা যাতে সক্রিয় ভাবে সংসদে তাঁদের মতামত দেন, সে আশাও প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার লোকসভার অধিবেশন শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘সংসদীয় গণতন্ত্রে সক্রিয় বিরোধীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’
৫৪৫ আসনবিশিষ্ট সংসদের এনডি জোটের দখলে এসেছে ৩৫৩টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে বিজেপি একাই জিতেছে ৩০৩টিতে। বিজেপির পরে কংগ্রেসের স্থান। কংগ্রেস পেয়েছে ৫২টি আসন। তবে বিপুল জনমত নিয়ে ফের ক্ষমতায় এলেও তার ভারে যেন বিরোধীরা নুইয়ে না পড়েন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীরা সংখ্যায় যতই নগণ্য হোক না কেন, তা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই বলে মত তাঁর। সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদের সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘বিরোধীদের সংখ্যা নিয়ে ভাবতে হবে না। তাঁদের প্রতিটি কথার মূল্য রয়েছে। আশা করি বিরোধীরা সংসদের অধিবেশনে সক্রিয় ভাবে অংশ নেবেন।’’
সংসদের সমস্ত সদস্যকেই বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘সংসদে এসে পক্ষ ও বিপক্ষ এগুলি ভুলে যাওয়া উচিত। বরং নিরপেক্ষ ভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করার কথাটাই আমাদের মনে রাখা উচিত।’’ গত কয়েক বছরে নানা কারণে সংসদের অধিবেশন বিঘ্নিত হয়েছে। চলতি অধিবেশনে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে কথা মনে রেখেই যেন মোদি বলেন, ‘‘আমার অভিজ্ঞতায় বলে, নির্বিঘ্ন ভাবে সংসদের কাজ চললে, তবেই আমরা দেশের জনতার অসংখ্য আশা-আকাঙ্খা পূরণে সমর্থ হব।’’
এ দিন অধিবেশনের শুরুতেই সাংসদ হিসাবে প্রথমে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর একে একে বাকি সাংসদেরাও শপথগ্রহণ করেন। এর আগে সকালেই রাষ্ট্রপতি ভবনে সপ্তদশ লোকসভার প্রোটেম স্পিকার হিসাবে বিজেপি সাংসদ বীরেন্দ্র কুমারকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবি।
